বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধনের জেরে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রোববার (৩১ অক্টোবর) দিল্লির রামলিলা ময়দানে বিরোধী জোটের এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।
এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনাস্থলে লাঠি ও ঢালসহ বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা কর্মী এবং সাঁজোয়া যান বা রাইয়ট কন্ট্রোল ভেহিক্যাল মোতায়েন করা হয়েছে।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে আয়োজিত এই প্রতিবাদ মিছিলে লাখ লাখ মানুষ অংশ নিতে পারে বলে আশা করছে বিরোধীরা। বিরোধীদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জন্য এটি একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।
ভোটার তালিকা সংশোধনে বিজেপির পক্ষ নেওয়ার অভিযোগ এনে গত মাস থেকেই রাজধানীসহ দেশজুড়ে প্রায় প্রতিদিন বিক্ষোভ চালিয়ে আসছে বিরোধী দলগুলো, ছাত্র সংগঠন এবং যুবপন্থী ‘কোকরোজ জনতা পার্টি’।
তবে নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, ভুলবশত যাদের নাম বাদ পড়েছে, তারা চাইলে পুনরায় নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। অন্যদিকে বিজেপি বিরোধীদের বিরুদ্ধে বৈধ নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টার পালটা অভিযোগ এনেছে।
জানা যায়, সাম্প্রতিক যুব বিক্ষোভ এবং বিরোধীদের প্রতি ক্রমবর্ধমান জনসমর্থন ২০১৪ সালে মোদি ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে তার সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। তবে সরকারের বর্তমান অবস্থান স্থিতিশীল রয়েছে এবং দেশটিতে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে ২০২৯ সালে।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, রোববার দুপুরের দিকে মধ্য দিল্লি থেকে রামলিলা ময়দান পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ পদযাত্রা করবে বিরোধী দলগুলো।
এএনআই-এর ভিজ্যুয়ালে দেখা গেছে, বিক্ষোভস্থলের বাইরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য অবস্থান নিয়েছেন। ট্রাফিক স্বাভাবিক রাখতে এবং পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে মাইকে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে।
দিল্লি ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমাবেশস্থলে বিপুল জনসমাগম হতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সড়কে প্রয়োজনীয় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও ডাইভারশন বা পথ পরিবর্তন কার্যকর করা হয়েছে।
জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা রোহিত রাজবির এএনআইকে জানান, সমাবেশে মানুষ আসতে শুরু করেছে। সমাবেশস্থল ও নির্ধারিত পদযাত্রার পুরো রুটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বর মাসে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের পর নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, কমিশনের দুই উপ-প্রধান ভোটার তালিকা সংশোধন, নিবন্ধন প্রক্রিয়া এবং ডিজিটাল সিস্টেম নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে বেশ কিছু আপত্তি ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
গত বছর শুরু হওয়া এই তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে জাপানের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি—প্রায় ১৩ কোটির বেশি মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ কোটি মৃত ব্যক্তি, ৬ কোটি ৩২ লাখ স্থানান্তরিত এবং ৩ কোটি এমন ব্যক্তি রয়েছেন যাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।
বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এই বাদ পড়ার তালিকায় মুসলিমসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু ভোটাররা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যারা সাধারণত হিন্দু জাতীয়তাবাদী শাসক দলের সমর্থক নন।
এদিকে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন