পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে রিফাত বিন সাজ্জাদ (২৪) নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
আজ সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হোসেন মুহাম্মদ ফজলুল বারী আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খলিলুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত—রিফাত বিন সাজ্জাদ জেলার বোদা উপজেলার মাঝগ্রাম এলাকার আখতার হোসেনের ছেলে।
মামলার নথির বরাত দিয়ে আদালত জানান, ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি দিনাজপুর থেকে একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে পঞ্চগড় যাচ্ছিলেন রিফাত। ঠাকুরগাঁও রোড রেলস্টেশনের কাছাকাছি এলাকায় পৌঁছালে এক বাদাম বিক্রেতার মাধ্যমে ওই কিশোরীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে ওই দিন রাত ৯টার দিকে জেলার কিসমত রেলস্টেশনে নামেন রিফাত।
এরপর রেলক্রসিংয়ের পশ্চিম পাশের একটি কক্ষে নিয়ে রিফাত ওই কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে তার মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে কিশোরীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ রেললাইনে ফেলে রাখা হলে ঢাকাগামী বা অন্য কোনো একটি ট্রেন মরদেহটির ওপর দিয়ে চলে যায়।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বড় অগ্রগতি হয় ২০২৫ সালের ৮ মার্চ। ওই দিন একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চুরির অভিযোগে স্থানীয় লোকজন রিফাতকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের কিসমত রেলক্রসিংয়ের সংলগ্ন হাজী শাহ আলী উচ্চবিদ্যালয় মাঠ থেকে তাকে আটক করা হয়।
পরে তার মুঠোফোন তল্লাশি করে ভুক্তভোগী কিশোরীর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ওই কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন।
ওই দিনই আটোয়ারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরশাদুল হক বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত, মামলার ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং তথ্যপ্রমাণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা শেষে আদালত আজ এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন