শেষ বাঁশি বাজতেই জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে উল্লাস। মাঠজুড়ে স্বস্তির আবহ। সাদ-শ্রাবণদের মুখেও তৃপ্তির হাসি। ঘরের মাঠে এমন জয় দিয়েই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের যাত্রা শুরু করল বাংলাদেশ। ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে আসর শুরু করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
র্যাঙ্কিং ও শক্তিমত্তায় এগিয়ে থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে ভুটানের বিপক্ষে সহজ জয় পায়নি বাংলাদেশ। গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ৬৯ মিনিট পর্যন্ত। শেষ পর্যন্ত বদলি হিসেবে নামা মো. ইব্রাহিমের একমাত্র গোলেই স্বস্তি ফিরেছে কোচ থমাস ডুলির শিবিরে।
ম্যাচের ৬৪তম মিনিটে মাঠে নামেন ইব্রাহিম। পাঁচ মিনিট পরই জালের দেখা পান তিনি। জায়ান আহমেদের ক্রসে ভুটানের বক্সে সামিত সোমের হেড থেকে আসা বলে দারুণ ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন এই ফরোয়ার্ড। তার গোলেই এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ওই ব্যবধান ধরে রেখেই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।
ইব্রাহিমের জন্য জাতীয় দলে ফেরাটা স্মরণীয় হয়ে থাকল। একসময় নিয়মিত খেললেও মাঝে দলে আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলেন তিনি। দুই মাস আগে ফর্টিজের হয়ে গোল করে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের মূল পর্বে দলকে তুলেছিলেন। এবার জাতীয় দলের জার্সিতে ভুটানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে জয়ের নায়ক হলেন এই ফুটবলার।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ফয়সাল আহমেদ ফাহিমকে তুলে ফাহমিদুলকে নামান ডুলি। এরপর ১৫ মিনিটের ব্যবধানে আরও দুটি পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশ কোচ। অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ও স্ট্রাইকার হিসেবে খেলানো বিশ্বনাথ ঘোষের জায়গায় মাঠে নামেন ইব্রাহিম ও সোহেল রানা। শেষ পর্যন্ত কোচের সেই বদলেই আসে কাঙ্ক্ষিত গোল।
গোল পাওয়ার পর অবশ্য আক্রমণের ধার কিছুটা কমিয়ে রক্ষণ সামলানোয় মনোযোগ দেয় বাংলাদেশ। শেষ ২০ মিনিটের জন্য ডিফেন্ডার রহমত মিয়াকেও নামান ডুলি। পিছিয়ে থেকেও সমতা ফেরানোর মতো তেমন কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি ভুটান। বাংলাদেশও ব্যবধান বাড়ানোর মতো কার্যকর আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি। ফলে এক গোলের জয় নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় স্বাগতিকদের।
ম্যাচে বাংলাদেশের একাদশের সবচেয়ে বড় চমক ছিল ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষের স্ট্রাইকার হিসেবে খেলা। চোটের কারণে আসিয়ান কাপে স্কোয়াডে না থাকা বিশ্বনাথকে সাফের আগে অনুশীলনে আক্রমণভাগে খেলিয়েছিলেন কোচ। ভুটানের বিপক্ষে মূল ম্যাচেও তাকে দেখা যায় স্ট্রাইকারের ভূমিকায়।
প্রথমার্ধে বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। বেশিরভাগ সময়ই খেলা হয়েছে ভুটানের অর্ধে। ডান প্রান্ত দিয়ে রাকিব হোসেন কয়েকবার প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে বিপদ তৈরি করেন। তার একটি ক্রস থেকে বিশ্বনাথ হেড করলেও বল লক্ষ্যে থাকেনি। রাকিবের নেওয়া কয়েকটি শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। নতুন পজিশনে বিশ্বনাথের কিছুটা অস্বস্তিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
অন্যদিকে ম্যাচের শুরু থেকেই রক্ষণ সামলে খেলেছে ভুটান। লো ব্লকে থেকে বাংলাদেশের আক্রমণ ঠেকানোর চেষ্টা করেছে তারা। তবে ৩০ মিনিটের পর কিছুটা খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করে দলটি। অধিনায়ক চ্যানচো গ্যালেস্টাইন কয়েকবার গতি দিয়ে বাংলাদেশের রক্ষণে চাপ তৈরি করেন। তার একটি দূরপাল্লার শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন