সার ডিলার নিয়োগে সরকারের নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তবে কোথাও নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটিয়ে কাউকে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকলে বিষয়টি পর্যালোচনা করে সরকার নতুন সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা এলাকায় কৃষি উদ্যোক্তা আতিক উদ্দিনের গ্রীষ্মকালীন টমেটো ক্ষেত পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। পরে একই ইউনিয়নের বিলবৈটা এলাকায় কৃষি উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আলীর বাগানও পরিদর্শন করেন কৃষিমন্ত্রী।
সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। ওই নীতিমালায় ডিলার হওয়ার জন্য বেশ কিছু শর্ত ও যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে পারলেই একজন ব্যক্তি ডিলারশিপ পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
তিনি বলেন, সরকারের নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করেই সার ডিলার নিয়োগের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জেলা প্রশাসকের (ডিসি) নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ কমিটি দায়িত্ব পালন করেছে। ফলে কোনো একক ব্যক্তির স্বাক্ষর কিংবা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোথাও নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি। কৃষিমন্ত্রী বলেন, যদি প্রমাণিত হয় যে, নির্ধারিত নীতিমালার বাইরে গিয়ে কোথাও কাউকে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাহলে সরকার বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে পাশাপাশি আমবাগানের ফাঁকা জমির সাথে ফসল হিসেবে আদা চাষের মাধ্যমে আমদানি নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা ও বাবুডাইং এলাকায় মাঠপর্যায়ের কৃষি কার্যক্রম পরিদর্শন করেন মন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় চাষিদের গ্রীষ্মকালীন বিষমুক্ত টমেটো চাষসহ আধুনিক কৃষির অগ্রগতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। কৃষিমন্ত্রী বলেন, সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে প্রতিটি ইউনিয়নে ডিলারের সংখ্যা দুইজন থেকে বাড়িয়ে তিনজন করা হয়েছে। পাশাপাশি চলতি মাসে চাহিদার আলোকে সারের সরবরাহ আরও বাড়ানো হয়েছে। ডিলারদের সেবা নিশ্চিত করতে অনিয়মের প্রমাণ মিললে ৯০ দিনের মধ্যে লাইসেন্স বাতিলের কঠোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি। আমবাগানের অনাবাদি জমি ব্যবহারের সুযোগ তুলে ধরে মন্ত্রী জানান,
কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির সম্প্রসারণ এবং কৃষি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন কৃষিমন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে তিনি স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের উৎপাদন কার্যক্রম, চাষাবাদের পদ্ধতি, ফসলের উৎপাদন পরিস্থিতি ও কৃষির সম্ভাবনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষসহ বিভিন্ন কৃষি উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে কৃষির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মুসা জঙ্গি, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ মো. হারুনূর রশীদ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিকুল ইসলামজেলা বিএনপির আহবায়ক গোলাম জাকারিয়াসহ জেলার কৃষি, মৎস্য দপ্তরের প্রধান ও বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাগণ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিএবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াকর্মীরা।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন