অপরাধমুক্ত সমাজ গড়তে দেশের মানুষের প্রতি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি সমাজকে অপরাধমুক্ত করা জরুরি। কেননা সমাজে অপরাধ ও অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ করতে না পারলে উন্নয়নমূলক কাজের প্রকৃত সুফল পাওয়া যাবে না।
গতকাল রাতে লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর হাইস্কুল মাঠে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে আয়োজিত হা-ডু-ডু প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, যত কাজই করি না কেন, সমাজকে সুস্থ করতে না পারলে এসব কাজের কোনো মূল্য থাকবে না। তাই আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ, মাদক ও সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতন থাকুন, সোচ্চার হোন।
এলাকাবাসীর চাহিদা অনুযায়ী উন্নয়নকাজ করার আশ্বাস দিয়ে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, কয়েক দিন আগেই বানিয়াটারির একটি স্কুলের উন্নয়নে ৮ কোটি টাকার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও সুযোগ- সুবিধা থাকা আবশ্যক বলে জানান ত্রাণমন্ত্রী।
তবে এক্ষেত্রে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান ও পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সকল ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে একটি পূর্ণাঙ্গ আলোকিত লালমনিরহাট গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, আগামী ১৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লালমনিরহাটে এসে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। দেশের আটটি বিভাগে ৩০টি মডেল খাল খননের পরিকল্পনার মধ্যে প্রথমটির উদ্বোধন হবে লালমনিরহাটে।
এসব খাল কৃষিকাজে সেচ, মাছ চাষ ও হাঁস পালনের পাশাপাশি বহুমুখী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হবে।
তিনি বলেন, খালকেন্দ্রিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে সম্পৃক্ত করা হবে। এ লক্ষ্যে তাদের সঙ্গে চুক্তি করে খালের এক কিলোমিটার করে অংশ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে, যাতে তারা আয়-রোজগারের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে স্থানীয়দের খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সফরের দ্বিতীয় পর্বে প্রধানমন্ত্রী ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং তাদের অভিজ্ঞতার কথা শুনবেন।
‘আলোকিত লালমনিরহাট’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, মোবাইল ক্যাসিনো, জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এ সংগঠন কাজ করছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, স্বেচ্ছাসেবীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতার পাশাপাশি অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সচেতন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। ইতোমধ্যেই এ উদ্যোগে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বড়ো একটি অংশ অপরাধের পথ থেকে ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তিনি বলেন, এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে সামাজিক সমস্যাগুলো মোকাবিলায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাস, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবিএম ফারুক সিদ্দিক, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজু পাটোয়ারীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন