দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা সদরের প্রাণ কেন্দ্রে উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের উপর অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয় একটি ব্রীজ। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে উচিৎপুর, নিজিয়া, হাতিশা, খরচন্ডা, পাইকপাড়া গ্রামসহ অন্যান্য গ্রামের জলাবদ্ধতা হয়ে যাওয়ার ফলে কৃষককের ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকেই। এই খালের উপর ব্রীজ নির্মাণ করার কারণে একদিকে যেমন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে, অন্যদিকে বর্ষার মৌসুমে ঘর-বাড়ি ও ফসল তলিয়ে গিয়ে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন বেশ কয়েকটি গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকেই জনানা, এই খালের উপর হঠাৎ করে রাতের আধাঁরে ব্রীজ নির্মাণ করার কারণে দিনদিন খালের সৌন্দর্য ও ঘর-বাড়ি এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হতে পারে। বর্ষাকালে খাল ভরাট হলে বড় ধরনে ক্ষয়-ক্ষতি সাধিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। অত্র উপজেলা সদরের প্রাণ কেন্দ্রের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া উচিৎপুর মৌজার খালটি। এই খালটি দিয়ে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন স্থানের পানি প্রবাহিত হতে দেখা যাচ্ছে। এক শ্রেণীর অসাধু ব্যক্তি নিজ স্বার্থ হাঁসিলের জন্য কাউকে কোনো কিছু না জানিয়ে গায়ের জোরে বা অদৃশ্য ক্ষমতার বলে খালের উপর হঠাৎ করে ব্রীজ নির্মাণ করেছেন মর্মে অভিযোগ উঠেছে। এই ব্রীজটি নির্মাণকে কেন্দ্র করে সকল মহলের মধ্যে শুরম্ন হয়েছে আলোচনা- সমালোচনার ঝড়। অত্র খালের উপর ব্রীজটি নির্মাণ করায় গত ১৪ জুলাই'২৬ দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী দুলালসহ অনেক সংবাদকর্মীরা অভিযোগ বিষয়ে সরেজমিনে পরিদর্শনে আসেন এবং স্থানীয় জনগণের কাছে সরকারি খালের উপর অবৈধভাবে ব্রীজ নির্মাণ বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগ সহকারে বক্তব্য গ্রহণকরেন। যা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ ও বিভিন্ন বে-সরকারি চ্যালেনগুলোতে ব্রীজ সংক্রান্ত বিষয়ে সংবাদ প্রচার হয়ে আসছে।
জানা যায়, পানি নিষ্কাশনের খালটি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের এবং পাকাসড়কটি সড়ক ও জনপদ (সওজ) এর আওতাধীন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চলতি বছরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালীন সময়ে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই ও জনগণের চোখকে ফাঁকি দিয়ে রাতের আধারে তরিঘরি করে উক্ত খালের উপর ব্রীজ নির্মাণ করেন নৌ-বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এক সদস্য। তিনি খালের দক্ষিণ পার্শ্বে ৩ তলা বিশিষ্ট্য একটি আবাসিক ভবন নির্মাণ করেছেন। সেই ভবনে যাওয়ার জন্য ঐ ব্যক্তি প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে সরকারি খালের উপর ব্রীজটি নির্মাণ করেছেন বলে জানান তারা।
এদিকে সরকারি খালের উপরে ব্রীজ নির্মাণ প্রসঙ্গে ইউএনও মোকলেদা খাতুন মীম জানান, ইতোমধ্যে ব্রীজটির বিষয়ে দিনাজপুর সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে পত্র প্রেরণনের মাধ্যমে অবগত করা হয়েছে।