পলি নেট হাউজ পদ্ধতি স্থাপনের মাধ্যমে দিনাজপুরে বিরলে কৃষিতে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা। এই আধুনিক পদ্ধতির মাধ্যমে কৃষকরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপেক্ষা করেই সহজে চারা উৎপাদন করতে পারবে। যে কারনে কৃষক ঝুকিমুক্ত চাষাবাদের পাশাপাশি আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছেন। এদিকে স্থানীয় কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সব ধরনের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে এবং এই প্রযুক্তি আগামীতে আরো সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
দিনাজপুরের জেলার বিরল উপজেলার ১০ নম্বর রানিপুকুর, ৮ নম্বর ধর্মপুর ও ৩ নম্বর ধামইড় ইউনিয়নে পলি নেট হাউজ স্থাপন করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে কৃষক সারাবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপেক্ষা করেই চারা উৎপাদন করতে পারছে। বর্তমানে এই পলি নেট হাউজে লাউ, কুমড়া, পেঁপে, মরিচ, ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ সকল ধরনের সবজির চারা উৎপাদন হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে রোগমুক্ত ও সবল চারা কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। শুধু দেশি জাতের চারা নয় অফ সিজনে এখানে স্টবেরী, ক্যাপসিক্যামসহ নানান ধরনের বিদেশি সবজির চারা উৎপাদন করে কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি খুব অল্প সময়ে মধ্যেই বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। অনেক দূর-দুরান্ত থেকে চারা সংগ্রহ করতে আসছেন কৃষক এবং অনেকে অগ্রিম বায়নাও নিয়ে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই বেশ সাড়া ফেলেছে বলে জানান প্রকল্পর সত্ত্বাধিকারী।
ফারমার্স হাব এন্ড পলি নেট হাউজের সত্ত্বাধিকারী এমদাদুল হক জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগীতায় প্রথমে আমি পলি নেট হাউজ স্থাপন করার উদ্বুদ্ধ হই। এখন পর্যন্ত আমি ভাল ভাবে চারা বিক্রি করতে পারছি। শুধু বিরল উপজেলা নয়, পার্শবর্তী জেলা থেকে কৃষকরা আমার কাজ থেকে চারা নিয়ে যাচ্ছে। এতে করে আমি স্বাবলম্বী।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, এমদাদুল তার আস্থার জায়গা থেকেই রোগ মুক্ত ও সবল চারা কৃষকদের স্বল্পমূল্যে চারা দিচ্ছেন এবং ভালো ফলনও পাচ্ছেন। পাশাপাশি অনেক কৃষক আসছেন এই প্রকল্পটি এক নজর দেখতে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুম্মান আক্তার জানান, আধুনিক কৃষিতে যুক্ত হয়েছে পলি নেট হাউজ প্রকল্প। কৃষি উদ্যোক্তারা সব ধরনের পরামর্শ প্রদান করছে কৃষি অফিস। পাশাপাশি এই পযুক্তি ছড়িয়ে দিতে স্থানীয় কৃষি অফিস কাজ করছে বলে জানালেন এ কর্মকর্তা।
পলি নেট হাউজ প্রকল্পটি স্থাপনের জন্য একটিতেই ব্যায় হয়েছে ২০ লক্ষ টাকা।