ঢাকায় ১৭ বছর বয়সী রাকিব ইসলাম নামে এক কিশোরকে হত্যার পর তার মরদেহ নীলফামারীর ডিমলায় নিজ বাড়ির পাশে মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মামুন (১৮) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার এক বিশেষ তদন্তকারী দল ডিমলা থানা পুলিশের সহায়তায় বালাপাড়া গ্রাম থেকে পুতে রাখা মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত রাকিব টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর থানার উদ্দামপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার খাদেমুল ইসলামের ছেলে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় মেয়েঘটিত বিরোধের জেরে রাকিবকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে মরদেহ নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ির সীমানায় নিয়ে মাটিচাপা দেন অভিযুক্ত মামুন।
ঘটনাকে ভিন্নখাতে ঘোরাতে ও অর্থ হাতিয়ে নিতে ঘাতক মামুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির আশ্রয় নেয়। নিহত রাকিব জীবিত আছে প্রমাণ করতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও তৈরি করে সে। পরবর্তীতে সেই ভিডিও রাকিবের পরিবারের কাছে পাঠিয়ে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
বিষয়টি তদন্তে নেমে ঢাকার তদন্তকারী দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত মামুনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ডিমলার বালাপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে মাটিচাপা দেওয়া স্থান থেকে রাকিবের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধার শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং আটক মামুনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ নৃশংস ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন