সিপাহীপাড়ার রাফি ওরফে রিজন মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, জিজ্ঞাসাবাদে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকারের দাবি
দিনাজপুর শহরের সিপাহীপাড়া এলাকায় কালভার্ট নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ভেকুর ব্যাটারি চুরির চেষ্টায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে টিটু শিকদার (৩৬) নামে এক নৈশপ্রহরীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় মামলার এজাহারনামীয় আসামি রাফি ওরফে রিজন মোল্লাকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশের পক্ষ থেকে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার রাফি ওরফে রিজন মোল্লা দিনাজপুর পৌরসভার দক্ষিণ বালুবাড়ী (সিপাহীপাড়া) এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সূত্রের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে দিনাজপুর পৌরসভার রেলব্রিজ এলাকার একটি গলি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় দিনাজপুর পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামবাগ জামে মসজিদের পূর্ব পাশে একটি কালভার্ট নির্মাণকাজ চলছিল। নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ভেকু ও নির্মাণসামগ্রী পাহারার দায়িত্বে ছিলেন টিটু শিকদার।
গত ২১ অক্টোবর রাতে তাঁর বড় ভাই বিপ্লব শিকদার বাড়িতে খাবার খেতে গেলে টিটু একাই দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১টার দিকে রাফি ওরফে রিজন মোল্লাসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজন কালভার্টের দক্ষিণ পাশে থাকা ভেকুর ব্যাটারি চুরির চেষ্টা করেন। এ সময় টিটু বিষয়টি টের পেয়ে এগিয়ে গেলে তাঁকে ধারালো ছু,রি দিয়ে আঘাত করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাঁকে পেটের নিচের বাম পাশে পরপর দুটি কো,প দেওয়া হয়। এতে তিনি গু,রু,তর আ,হত হন।
টিটুর চিৎকার শুনে তাঁর বড় ভাইসহ স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে আ,হত টিটুকে উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ২২ অক্টোবর রাত ৪টা ৭ মিনিটে তাঁকে মৃ,ত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নি,হতের বড় ভাই বিপ্লব শিকদার বাদী হয়ে ২২ অক্টোবর দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় হ,ত্যা মামলা করেন। মামলাটি থানার মামলা নম্বর ৫৯, জিআর নম্বর ৮৭৩/২৬। এতে রাফি ওরফে রিজন মোল্লাসহ অজ্ঞা,তনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসার নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আনোয়ার হোসেনের সমন্বয়ে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আবদুল হালিমের নেতৃত্বে অভিযান শুরু হয়। কোতোয়ালি থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সমন্বয়ে গঠিত দলটি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং গোপন সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযান চালায়। একপর্যায়ে রেলব্রিজ এলাকার একটি গলি থেকে মামলার এজাহারনামীয় আসামি রাফিকে গ্রে,প্তার করা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামি ঘট,নার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁর জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করার জন্য আদালতে উপস্থাপন করা হবে। এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছেন কি না, তা জানতে আসামির রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হবে।
দিনাজপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, চু,রি, ছিনতাই, ডাকাতি ও রহস্য উদ্ঘাটন না হওয়া হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে বলেও প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন