দিনাজপুরে ৪র্থ স্বামীর অন্ডকোষ কামড়ে ছিড়লো স্ত্রী আশা আক্তার (২৭)। এই অভিযোগে স্বামীর মামলায় কারাগারে স্ত্রীসহ শ্বশুর-শ্বাশুড়ি। এ ঘটনায় দিনাজপুর কোতয়ালী থানায় একটি মামলা করেন হামলার শিকার আব্দুল মজিদ খঁা। মামলা নং-৮, তারিখ: ০২/০৯/২০২৬।
জানা গেছে, আশা আক্তার। বয়স সবেমাত্র ২৭ বছর। এই বয়সেই তিনি গড়ে তুলেছেন ১২ জন স্বামীর ভান্ডার। কেউ জীবিত, কেউবা মৃত। বিয়ে করেছেন আবার ছেড়েছেন নিজ মর্জি মোতাবেক। এরই মধ্যে প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তঁার ৪র্থ স্বামী আব্দুল মজিদ খঁা এর সঙ্গে চলছে বিভিন্ন মামলা মোকদ্দমা।
মামলার প্রতিবেদনে জানা যায়, দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার মুর্শিদাহাট (জালগঁা) এলাকার মৃত মফির উদ্দীদের ছেলে মো. লাইসুর রহমান (৫৪), লাইসুর রহমানের মেয়ে মোছা. আশা আক্তার (২৭) ও স্ত্রী মোছা. লিপি আক্তার (৪৪) এর বিরুদ্ধে বিজ্ঞ দিনাজপুর জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআরপিসি মামলা করে বাদী আশা আক্তারের ৪র্থ স্বামী আব্দুল মজিদ খঁা। যার এমআর মামলা নং-১৯/২৬। তাদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় এবং বিজ্ঞ আদালতে একাধিক মামলা মোকদ্দমা আছে। বাদী উক্ত মামলার হেয়ারিং এর দিন গেল ২ সেপ্টেম্বর দুপুর দেড় টার সময় ডিসি কোর্টে হাজিরা দিয়ে জজ কোর্টে আসার পথে উপরোক্ত নামধারীসহ অন্যান্য বিবাদিগণ পরিকল্পিতভাবে বে-আইনী জনতায় দলবদ্ধ হয়ে হাতে ধারালো চাকু, ছোরা, লোহার রড, লাঠি ইত্যাদি নিয়ে ডিসি কোর্টের উত্তর দিকের পকেট গেইট পার হয়ে পাকা রাস্তার উপর দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে পৌঁছামাত্রই উপরোক্ত নামধারীরা তাদের হাতে থাকা গুড়া মরিচ বাদীর চোখে ও সারা শরীরের ছিটিয়ে দেয়। এরপর বাদীকে আটক করে এলোপাথারী ভাবে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কিলঘুষি মেরে ফুলা জখম করে। একপর্যায়ে লাইসুর রহমান রাস্তা হতে অর্ধেক ইট তুলে নিয়ে বাদীকে হত্যার উদ্দেশ্যে কপালের উপরে স্বজোরে আঘাত করে গুরত্বর রক্তাক্ত জখম করে। উক্ত স্থানে ৩ সেলাই হয়। তখন বাদী মাটিতে পড়ে গেলে তার স্ত্রী আশা আক্তার হত্যার উদ্দেশ্যে অন্ডকোষ দাঁত দিয়ে কামড় দিয়ে গুরত্বর রক্তাক্ত জখম করে। দাঁতের কামড়ের আঘাতে মজিদ খঁার অন্ডকোষ এর বিচি বের হয়ে আসে। অন্ডকোষে ১০টি সেলাই দিতে হয়। এরপর আটককৃত লিপি আক্তারসহ অন্যান্যরা বাদীকে এলোপাথারীভাবে মাথায়সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কিলঘুষি মেরে ফুলা কালশিরা জখম করে। এতে বাদী আব্দুল মজিদ খঁা জীবন বাঁচানোর তাগিদে রক্তাক্ত অবস্থায় দৌড়ে জজ কোর্টের লিগ্যাল অফিসের সামনে এলে আটককৃত নামধারীসহ অন্যান্যরা বাদীর পিছু ধাওয়া করে। এরপর বিবাদীগন বাদীকে লিগ্যাল অফিসের সামনে আটক করে পুনরায় এলোপাথারীভাবে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারপিট ফুলা জখম করে। তখন শ্বশুর লাইসুর বাদীর ডান প্যান্টের পকেট হতে নগদ ১১ হাজার টাকা ও স্ত্রী আশা বাদীর প্যান্টের বাম পকেট হতে তার ২৭ হাজার টাকা মুল্যের ব্যবহৃত একটি স্মার্ট স্যামসাং মোবাইল সেট এবং ২টি নোট বুক জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। এসব অভিযোগ বাদী তার এজাহারে উল্লেখ করেছেন।
প্রাথমিক তদন্তে উপরোক্ত নামধারীদের অত্র মামলার ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতয়ালী থানার এসআই মো. নুর আলম সিদ্দিকী।
এ বিষয়ে মামলার বাদী আব্দুল মজিদ খঁা প্রতিবেদককে জানান, আশা আক্তারের ৪র্থ স্বামী আমি। আরও ১১ জনের অধিক স্বামী আছে। তঁার প্রথম স্বামী দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ রেলকলোনী স্টেশনপাড়ার আইয়ুব আলী বাবুর্চির ছেলে ফরহাদ হোসেন, দ্বিতীয় স্বামী একই উপজেলার নাফানগরের বড় সুলতানপুর বাজার এলাকার মোস্তফা সাইকেল মেকারের ছেলে হাসিনুর রহমানসহ দিনাজপুরের পার্বতীপুর নতুন বাজার এলাকার আইনজীবি মৃত মজিবর রহমান, রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পাওটানা এলাকার আশরাফ উদ্দিনের ছেলে আশরাফুল ইসলাম, ফরিদপুর জেলার নিউমার্কেটর এলাকার শেখর আলী শেখ এর ছেলে রবিউল শেখ, ঠাকুরগাওয়ের রাণীশংকৈল বাজারের মৃত মো. ইব্রাহীমের ছেলে মৃত আশরাফুল, একই জেলার পীরগঞ্জ বাজারের বাসিন্দা মো. জুলফিকারের ছেলে রুবেল সাকিব, দিনাজপুরের ফুলবাড়ি বাসস্ট্যান্ড রেলগেট এলাকার রব্বানীর ছেলে শেখ আল আমিন, কুড়িগ্রামের উপজেলা গেট এলাকার আব্দুল জব্বারের ছেলে রুবেল অটোচালকসহ আরও কয়েকজন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন