দিনাজপুর জেলা শ্রমিক লীগ নেতা ও মটর বাস শ্রমিক নেতা শেখ বাদশার মুক্তির দাবিতে শ্রমিকলীগের সঙ্গে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
সংঘর্ষ চলাকালে দুই বাসে একটি মটর সাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসময় বেশ কয়েকটি বাস ভাংচুর চালায় শ্রমিকরা।
বৃহস্পতিবার ১১ টার দিকে কোতয়ালী থানা চত্বরে শ্রমিকদের আন্দোলন চলাকালে বিএনপি সমর্থিত শ্রমিক ও সহযোগিত সংগঠনের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারী শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দিলে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে অন্তত উভয় পক্ষের ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এদিকে দুপুরে কড়া পাহারা মধ্যে দিয়ে আটক শ্রমিক নেতা শেখ বাদশাকে আদালতে নেওয়া হয়েছে।
আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাত ৯টার দিকে গত ৫ আগস্টের একটি মামলায় শ্রমিকনেতা শেখ বাদশাকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বুধবার রাত থেকেই দূরপাল্লার বাসসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেন পরিবহন শ্রমিকেরা। শ্রমিক নেতাকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দিনাজপুর শহরের সরকারি কলেজ মোড়, ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড ও বালুয়াডাঙ্গাসহ শহরের প্রধান প্রবেশপথগুলোতে আড়াআড়ি যানবাহন দাঁড় করিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয়।
বাদশার অনুসারী শ্রমিকদের অভিযোগ, ১৯ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হতে যাচ্ছেন শেখ বাদশা। তাকে নির্বাচন থেকে সরাতে তার প্রতিদ্বন্দ্বী কয়েকজন বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর সহযোগিতায় পুলিশকে চাপ দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ফরহাদ হোসেন বলেন, শেখ বাদশা শ্রমিক লীগের নেতা। তার নামে মামলা থাকায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু কতিপয় শ্রমিক থানা আক্রমণ করে তাকে ছাড়িয়ে নিতে একধরনের মব সৃষ্টি করেছে। সড়ক অবরোধ করে জনভোগান্তি করছে। জনগণের ভোগান্তি বিবেচনা করে আমরা তাদের কাছে অবরোধ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছিলাম কিন্তু তারা আমাদের উপর চড়া হওয়ার চেষ্টা করে।
এদিকে শ্রমিকেরা কোতোয়ালি থানার চারপাশে বাস-ট্রাক রেখে সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নিয়েছেন। শেখ বাদশার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে দিনাজপুর-ঢাকা রুটেও বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ওসি নুরুন্নবী বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় শেখ বাদশার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শেখ বাদশা পৌর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সাম্প্রতিককালে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি শ্রমিক লীগের পদ ছাড়েন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন