দিনাজপুরের বিরামপুর সীমান্ত দিয়ে ৯ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এ সময় দুই নারীসহ তিনজনকে আটক করে ভারতে ফেরত পাঠিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করা বাকি ছয়জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে বিরামপুর উপজেলার ২ নম্বর কাটলা ইউনিয়নের খিয়ারমামুদপুর সীমান্তের ২৯১/২০ এস সীমানা পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার সময় খিয়ারমামুদপুর গ্রামের বাসিন্দা ফেরদৌস আলীর বাড়িতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। সেই সুযোগে সীমান্তের ২৯১/২০ এস পিলারসংলগ্ন এলাকা দিয়ে ভারত থেকে ৯ জন নারী ও পুরুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। তাঁদের মধ্যে দুই নারী ও এক পুরুষ ওই বিয়েবাড়িতে আশ্রয় নেন। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবিকে খবর দেন।
সংবাদ পেয়ে জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের (বিজিবি-২০) আওতাধীন ভাইগড় বিওপি ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা খিয়ারমামুদপুর গ্রামে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে মিজানুর রহমানের বাড়ি থেকে অনুপ্রবেশকারী তিনজনকে আটক করা হয়। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ির মালিক মিজানুর রহমান পালিয়ে যান।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত দিয়ে আসা অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দেওয়ার কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে আজিজুল ইসলাম নামে এক যুবককে বিজিবির এক সদস্য মারধর করেন। পরবর্তীতে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হলেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রকার আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
খিয়ারমামুদপুর গ্রামের বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য শুকুর আলী জানান, ভারত থেকে আসা ৯ জনের মধ্যে ছয়জনকে স্থানীয় আজিজুল ও মিজানুরের সহযোগিতায় পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মিজানুরের বাড়ি থেকে তিনজনকে আটক করে বিজিবি। তবে আজিজুলকে মারধর করে ছেড়ে দেওয়া হলেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
পুশইনের বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাইগড় বিওপি ক্যাম্পের কমান্ডার সুবেদার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "বিএসএফ দুই নারী ও এক পুরুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠাচ্ছিল। আমরা তাঁদের সীমান্ত থেকে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছি। অনেকে অনেক বক্তব্য দিতে পারে, তবে আমি ঘটনাস্থলে থেকে যা বলছি সেটাই সঠিক তথ্য।"
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিজিবির সহায়তায় ভারতে ফেরত পাঠানো ওই তিনজন বর্তমানে সীমানা পিলার ২৯১/২০ এস থেকে আনুমানিক ৫০০ গজ দূরে ভারতের শ্রীরামপুর গ্রামের একটি বাড়িতে অবস্থান করছেন।
উল্লেখ্য, এই সীমান্ত দিয়ে গত ২৫ জুলাই ভোরে একই খিয়ারমামুদপুর এলাকার ২৯১/২০ এস সীমানা পিলারসংলগ্ন ভারতের শ্রীরামপুর সীমান্ত দিয়ে দেশটির গুজরাটের আমেনাবাদ এলাকা থেকে আসা ৯ জন নারীকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল বিএসএফ। ওই ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার করা হলেও আবারও একই ধরনের পুশইনের ঘটনা ঘটল।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন