দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে নিখোঁজের চার দিনপর মফিদুল ইসলাম (৪০) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় মোঃ মাসুদ মিয়া (২৯) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত মাসুদ মিয়া নবাবগঞ্জ উপজেলার মালদহ গ্রামের বেলাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি নিহত মফিদুল ইসলামের প্রতিবেশী ও পূর্বপরিচিত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত মফিদুল ইসলাম পেশায় রাজমিস্ত্রি এবং মালদহ গ্রামের বাসিন্দা। গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর নবাবগঞ্জ থানায় তার নিখোঁজের বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। জিডির নম্বর ২৬৬।
নিখোঁজ মফিদুলের সন্ধানে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তাসহ বিভিন্নভাবে অনুসন্ধান চালাতে থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায় ৮ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটে মাসুদ মিয়ার বাড়ির পূর্ব পাশে সেচ পাম্পের টিনশেড ঘরের কাছে একটি পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে টয়লেটের স্লাব সরিয়ে ভেতরে একটি মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃ আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে নবাবগঞ্জ থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার এবং তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই মোঃ লিটন মিয়া বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলার তদন্ত ও আসামি গ্রেফতারে অভিযান চালিয়ে পুলিশ মাসুদ মিয়াকে গ্রেফতার করে।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৯টার দিকে মফিদুল ইসলামের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মাসুদ বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। পরে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন। এরপর মরদেহটি গোপন করার উদ্দেশ্যে একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকিতে রেখে স্লাব দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বাঁশের লাঠি এবং নিহত মফিদুল ইসলামের ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
পরে গ্রেফতারকৃত মাসুদ মিয়া আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গেছে, মাসুদ মিয়া তার স্ত্রীকে ভালোবাসতেন। তবে অনলাইন জুয়াসহ বিভিন্ন খারাপ অভ্যাসের কারণে প্রায় ছয় মাস আগে তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এরপর থেকে তিনি একাকিত্বে ভুগছিলেন এবং রাত-বিরাতে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করতেন। নিজের নিরাপত্তার জন্য তিনি সঙ্গে বাঁশের লাঠি রাখতেন বলেও তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় গান শোনার উদ্দেশ্যে মাসুদ মফিদুলের কাছে যান। কথোপকথনের একপর্যায়ে মফিদুল তার স্ত্রীকে নিয়ে কটু মন্তব্য করলে মাসুদ ক্ষিপ্ত হয়ে হাতে থাকা বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে আঘাত করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।
তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত ছিলেন কি না, সে বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন