নীলফামারী সদর উপজেলার ৫ নং টুপামারী ইউনিয়নের দক্ষিণ কিসামত দোগাছিতে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করার লক্ষ্যে এক সুধী ও মাদকবিরোধী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার কিসামত দোগাছি এলাকায় লিটন ইসলামের সঞ্চালনায় এই সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ৫ নম্বর টুপামারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মছিরত আলী শাহ ফকিরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারীর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোঃ ফারুক হোসেন (পিপিএম-সেবা)।
সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এএসপি মোঃ ফারুক হোসেন (পিপিএম-সেবা) মাদকের অপরাধমূলক দিক এবং আইনি পরিণতির নানা চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "মাদক কেবল একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার ও গোটা সমাজকে পঙ্গু করে দেয়। মাদক কেনাবেচা ও সেবনের সঙ্গে জড়িতদের রক্ষা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অপরাধের ধরন অনুযায়ী কঠিন আইন ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। যুবসমাজকে মাদকের অন্ধকার পথ থেকে ফিরিয়ে এনে একটি নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ গঠনে আইনি কঠোরতা অব্যাহত থাকবে।"
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নীলফামারী সদর থানার (ওসি) মোঃ জিল্লুর রহমান এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মাদক নির্মূলে পুলিশের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, "মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি এবং প্রতিদিন সক্রিয় ভূমিকা পালন করছি। তবে পুলিশের একার পক্ষে এটি পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। সমাজ থেকে মাদক উৎখাত করতে হলে স্থানীয় জনগণ ও অভিভাবকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রয়োজন। সচেতনতা বাড়িয়ে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।"
ইসলামের দৃষ্টিতে মাদকের কঠোর বিধান ও অপকারিতা নিয়ে বক্তব্য দেন বিশেষ অতিথি আহমেদ রায়হান। তিনি উল্লেখ করেন, "ইসলামে মাদককে সম্পূর্ণ হারাম ও সমস্ত পাপের মূল হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। ইসলামের নির্দেশনা মেনে জীবন পরিচালনা করলে কোনো মানুষ মাদকের পথে পা বাড়াতে পারে না। নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার চর্চায় পারে সমাজকে এই ব্যাধি থেকে মুক্ত রাখতে।"
সভাপতির বক্তব্যে ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মছিরত আলী শাহ ফকির বলেন, "আমাদের ইউনিয়নকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও সুশীল সমাজকে সঙ্গে নিয়ে আমরা একযোগে কাজ করে যাব। মাদকের সঙ্গে যুক্তদের সমাজে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।"
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায় স্থানীয় অধিবাসী মোঃ সবিজুল ইসলাম (নাঙ্গল)-এর মাধ্যমে। তিনি প্রকাশ্যে মাদক কারবারের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা চিরতরে শেষ করার ঘোষণা দেন এবং ভবিষ্যতে কোনো প্রকার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে না জড়ানোর মুচলেকা প্রদান করেন।
উক্ত মতবিনিময় সভায় এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, গণমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন