হত্যাকাণ্ডের স্বীকার গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের তিনজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রেখেছে সিআইডি। আসামিদের ডিএনএ নেয়ার পর ফরেনসিক পরীক্ষায় পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ডিএনএ মিলে গেলে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের সম্পৃক্ততার বৈজ্ঞানিক প্রমাণও চলে আসবে।
রংপুরে চাঞ্চল্যকার চার খুনের ঘটনায় অবশেষে ১৩ দিনের মাথায় ঘটনাস্থল থেকে সিআইডির জব্দকৃত আলামত ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠালো তদন্ত দল। তবে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য হত্যাকাণ্ডের শিকার গণপতি পরিবারের সদস্যদের নমুনা নেয়া হলেও এখনো আসামিদের নমুনা নেয়া হয়নি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য জানান রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তী। তিনি জানান, গত দুই দিনে তিন দফায় সিআইডি থেকে পাওয়া সবগুলো আলামত আদালতের নির্দেশে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকার সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
ডিএনএ পরীক্ষার জন্য কবে আসামিদের নমুনা সংগ্রহ করা হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে সনাতন চক্রবর্তী জানান, ফরেনসিক ল্যাবে আলামতগুলো পরীক্ষা করা হবে। এরপর এই আলামতের পরীক্ষার ওপর নির্ভর করে কারাগারে থাকা আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে।
সিআইডির রংপুর অফিসের এসপি (ভারপ্রাপ্ত) সুমিত চৌধুরী জানান, ঘটনাস্থল থেকে সেদিন সিআইডির বিশেষজ্ঞ ইন্সপেক্টর মিল্লাতের নেতৃত্বে ৩৫টিরও বেশি আলামত সংগ্রহ করা হয়। এরপর সব আলামত তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সিআইডি সূত্রে পাওয়া তথ্যমতে, ঘটনাস্থল থেকে ফল কাটার চাকু, ইয়াবা সেবনের ফয়েল, সিগারেটের শেষাংশ, নান রুটি, শসা ও খেজুর, বেসিনের দাগসহ ৩৫টি আলামত সংগ্রহ করেছিল সিআইডি।
তবে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আসামিদের আলামত দ্রুত সংগ্রহ করা প্রয়োজন। এতে জনমনের যে প্রশ্ন উঠেছে সেই প্রশ্নগুলো আর থাকবে না।
তদন্ত সংস্থা ও সিআইডি সূত্র বলছে, হত্যাকাণ্ডের স্বীকার গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের তিনজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রেখেছে সিআইডি। আসামিদের ডিএনএ নেয়ার পর ফরেনসিক পরীক্ষায় পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ডিএনএ মিলে গেলে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের সম্পৃক্ততার বৈজ্ঞানিক প্রমাণও চলে আসবে।
উল্লেখ্য, ২১ আগস্ট মধ্যরাতের পর রংপুর মহানগরীর মাছুয়াপাড়ার তালাবদ্ধ নিজ বাড়িতে খুন হন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বোলা, মেয়ে কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজিতে সদ্য মাস্টার্স করা আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী ও ছেলে জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম। ২২ আগস্ট রাত ১১টা থেকে ২৩ আগস্ট ভোর রাত ৫টা পর্যন্ত তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ২৩ আগস্ট ভোরে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস নামে দু’জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা সেদিন রাতেই রংপুর মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক রফিকুল ইসলামের কাছে খুনের কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।
এছাড়াও ২৫ আগস্ট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালদত-২-এ স্বাক্ষী হিসেবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের বন্ধু সীমান্ত। সেই রাতে প্রথমে সীমান্তের ঘরে ইয়াবা সেবন করেছিল তারা।
২৬ আগস্ট একই আদালতে স্বাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন দখিগঞ্জ শ্মশানের পাহারাদার (ডোম) বিদ্যুৎ দাস। মুগ্ধ গ্রেফতারের আগে ওই শ্মশানে গিয়ে বিদ্যুতের কাছে আশ্রয় চেয়ে হত্যাকাণ্ডের কথা বলেছিল।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন