দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার রামেশ্বরপুর গ্রামে মাদক কেনাবেচা ও সেবন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সন্ধ্যা নামলেই গ্রামের বিভিন্ন নির্জন স্থানে অপরিচিত মানুষের আনাগোনা ও ছোট ছোট জটলা দেখা যায় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের দাবি, এসব স্থানে মাদক সেবন ও কেনাবেচা চলে। এতে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবকেরা।
মাদক কারবার ও সেবন বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে রামেশ্বরপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুর রশিদ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে তিনি কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাদক কারবার ও সেবনের অভিযোগ তুলে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগকারীর ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের বিস্তার ঘটায় উঠতি বয়সী তরুণদের একটি অংশ ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। মাদকের প্রভাবে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ বাড়ছে বলেও তাঁর দাবি। ফলে অনেকটা নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন গ্রামবাসী।
সরেজমিনে রামেশ্বরপুরের কয়েকটি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সন্ধ্যার পর গ্রামের কিছু রাস্তা ও নিরিবিলি স্থান ফাঁকা হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, এই সময় এসব স্থানে কিছু মানুষের আনাগোনা বাড়ে। তবে কারা মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘দিনের বেলায় সব স্বাভাবিক মনে হয়। সন্ধ্যার পর কিছু জায়গায় অপরিচিত মানুষের আনাগোনা বাড়ে। প্রশাসন নজরদারি বাড়ালে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।’
একজন অভিভাবক বলেন, ‘শুধু মাদকসেবী গ্রেপ্তার করলেই হবে না। মাদকের উৎস ও সরবরাহকারীদের খুঁজে বের করতে হবে। আমাদের সন্তানরা যেন এতে জড়িয়ে না পড়ে, সেটিই এখন বড় চিন্তা।’
স্থানীয় এক শিক্ষক বলেন, একটি এলাকায় মাদকের বিস্তার ঘটলে তার প্রভাব শুধু মাদকসেবীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব পরিবার, শিক্ষা ও সামাজিক পরিবেশেও পড়ে। তাই শুরুতেই কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
এদিকে অভিযোগের পর পুলিশের নজরদারি ও কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, রামেশ্বরপুরে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং মাদকের উৎস অনুসন্ধান জোরদার করা হোক।
ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদ হাসান বলেন, ‘রামেশ্বরপুরের অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান করা হবে। মাদক কারবারে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তবে নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তদন্তে প্রমাণ প্রয়োজন। এলাকায় টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।’
ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ রুবানা তানজিন বলেন, ‘মাদক নিয়ন্ত্রণ শুধু পুলিশের একার দায়িত্ব নয়। প্রশাসন, পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। রামেশ্বরপুরের অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও জোরদার করা হবে।’
স্থানীয়দের দাবি, কাউকে হয়রানি নয়; বরং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত মাদক কারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে মাদকে জড়িয়ে পড়া তরুণদের পুনর্বাসন এবং পরিবার ও সমাজভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম জোরদারেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন