জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ঐতিহাসিক পাথরঘাটায় অটোচার্জার মিশুকচালক সাখাওয়াত হোসেনকে হত্যার পাঁচ দিন পর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হাবিল উদ্দিন (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর হেফাজত থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, নিহতের রক্তমাখা গামছা, ছিনতাই হওয়া অটোভ্যান ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে জয়পুরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়। এ সময় ডিবি পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, গত ১৪ অক্টোবর সকালে পাঁচবিবি উপজেলার আটাপুর ইউনিয়নের ঐতিহাসিক পাথরঘাটা ব্রিজ এলাকায় সাখাওয়াত হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন। বড় ভাই অসুস্থ থাকায় তাঁর অটোচার্জার মিশুক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন সাখাওয়াত। ঘটনার দিন গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর জীবিত ফিরতে পারেননি তিনি। পরে তাঁর মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি অটোভ্যানটি নিখোঁজ থাকার বিষয়টি সামনে আসে।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. শাহীন হোসেন (৩০) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচবিবি থানায় হত্যা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা করেন। মামলাটি পাঁচবিবি থানার ১৬ নম্বর মামলা (নম্বর-৩৫২), যেখানে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩০২/৩৪/৩৯৪ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, হত্যাকাণ্ডের পর জয়পুরহাটের পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাজু কামালের নেতৃত্বে একটি দল তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং অভিযুক্তকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, পাঁচবিবি উপজেলার ধাওয়াইপুর গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে হাবিল উদ্দিন কৌশলে সাখাওয়াতকে শালাইপুর বাজার থেকে ফিচকাঘাট হয়ে পাথরঘাটা এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে হত্যা করে অটোভ্যানটি ছিনতাই করা হয়। পরে ছিনতাই হওয়া ভ্যানটি মঙ্গলবাড়ি এলাকার একটি বাড়িতে রাখা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অভিযান চালিয়ে হাবিল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। তাঁর হেফাজত থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, নিহতের রক্তমাখা গামছা, ছিনতাই হওয়া অটোভ্যান ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
এদিকে সাখাওয়াত হোসেনের এমন নির্মম মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
আটাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ স ম সামছুল আরেফিন চৌধুরী আবু বলেন, সাখাওয়াত খুবই সহজ-সরল ও ভালো ছেলে ছিল। এমন একজন মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। তিনি আরও জানান, আসামি শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ডিবি পুলিশকে স্থানীয়ভাবে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন