লালমনিরহাটে স্ত্রী মিতু আক্তারকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামী আতিকুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ মো. হায়দার আলী।
মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি আতিকুল ইসলাম লালমনিরহাট সদরের গোকুণ্ডা ইউনিয়নের দাঁড়ারপাড় মুন্সিটারী এলাকার মৃত হাবিবুর রহমান হবিয়ার ছেলে।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে আতিকুলের সাথে বিয়ে হয় মিতু আক্তারের। বিয়ের পর তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। তবে বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। এতে অভিমান করে বাবার বাড়ি চলে যান মিতু আক্তার। পরে স্থানীয়রা আপস-মীমাংসা করে দিলে পুনরায় স্বামীর বাড়ি ফিরে আসেন তিনি।
এর ১৫-২০ দিন পর ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাতে তাদের মধ্যে আবারও বিবাদ দেখা দেয়। একপর্যায়ে স্বামী আতিকুল লাঠি দিয়ে স্ত্রী মিতু আক্তারকে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর স্ত্রীর লাশ ফেলে পালিয়ে যান আতিকুল। পরদিন সকালে মিতুর ৫ মাস বয়সি শিশুর কান্না শুনতে পেয়ে স্থানীয়রা ঘরে ঢুকে তার লাশ দেখতে পান এবং পুলিশে খবর দেন।
এ ঘটনায় নিহত মিতু আক্তারের বাবা বাদী হয়ে আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সে মামলায় ২০২৪ সালের ৪ জুলাই আতিকুলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আদালত এ মামলায় ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে মঙ্গলবার আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে বলা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারার বিধান অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শামসুল আলম মিলন খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘স্ত্রী মিতু আক্তারকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামী আতিকুলকে মৃত্যুদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।’
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন