২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। অন্য আর দশটা দিনের মতোই সকাল হয়েছিল সেদিনও। কিন্তু কে জানত, ৯টা বাজার আগেই নেমে আসবে মহাবিপর্যয়? সেদিন ৮টা ৪৬ মিনিটে নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে এভাবেই আঘাত হানে দুটি বাণিজ্যিক বিমান।
আজ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার দিন। সেদিন আল-কায়েদার ১৯ জন সদস্য চারটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ছিনতাই করে আত্মঘাতী হামলা চালান। দুটি উড়োজাহাজ আঘাত হানে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে। আরেকটি আঘাত করে ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে। চতুর্থ উড়োজাহাজটি পেনসিলভানিয়ার একটি এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। নিহত হন ২ হাজার ৯৭৭ জন।
সেদিনের ওই ঘটনা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাব্যবস্থাই বদলে দেয়নি, বদলে দিয়েছে বিশ্বরাজনীতি, যুদ্ধনীতি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের গতিপথ।
হামলার নেতৃত্বে ছিল ওসামা বিন লাদেনের নেতৃত্বাধীন আল-কায়েদা। তবে ৯/১১ হঠাৎ করে ঘটেনি। এর আগে আল-কায়েদা ১৯৯৮ সালে আফ্রিকায় দুটি মার্কিন দূতাবাসে বোমা হামলা এবং ২০০০ সালে ইয়েমেন উপকূলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস কোল-এ হামলা চালিয়েছিল। বিন লাদেন প্রকাশ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
তারপরও ২০০১ সালের হামলা ঠেকানো যায়নি। হামলার আগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে আল-কায়েদা ও সম্ভাব্য হামলা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য ছিল। কিন্তু সিআইএ ও এফবিআইয়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যথাযথভাবে আদান-প্রদান হয়নি। একাধিক গোয়েন্দা তথ্যের ‘টুকরোগুলো’ একসঙ্গে জোড়া লাগানো যায়নি। পরে ৯/১১ কমিশন এটিকে বড় ধরনের গোয়েন্দা ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করে।
নিউইয়র্কে তখন হাজার হাজার মানুষ ভবনের ভেতরে আটকা। কেউ নিচে নামার চেষ্টা করছেন, কেউ স্বজনকে ফোন করছেন। দমকলকর্মী, পুলিশ ও জরুরি সেবার কর্মীরা এগিয়ে যাচ্ছেন তাদের উদ্ধারে। এর মধ্যেই আরেকটি বিমান ছুটে যায় রাজধানীর দিকে। সকাল ৯টা ৩৭ মিনিটে আমেরিকান এয়ারলাইনস ফ্লাইট-৭৭ আঘাত হানে ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে অবস্থিত পেন্টাগনে। নিউইয়র্কে তখন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। সকাল ৯টা ৫৯ মিনিটে ধসে পড়ে দক্ষিণ টাওয়ার। ২৯ মিনিট পর, সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে পতন ঘটে উত্তর টাওয়ারেরও। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ম্যানহাটনের ঝলমলে আকাশ বদলে যায় ধোঁয়া আর ধুলোর চাদরে।
নিউইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরোতে ৯/১১ মেমোরিয়ালে নিহতদের নাম খোদাই করা আছে। কিন্তু নামগুলো শুধু স্মৃতির ফলক নয়, প্রতিটির পেছনে ছিল একটি পরিবার, একটি জীবন ও কিছু অসমাপ্ত পরিকল্পনা। ২৫ বছর পরও তাই ১১ সেপ্টেম্বর শুধু একটি তারিখ নয়।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন