ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক ডেকেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু জানায়, বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি অবগত তিনটি সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস গতকাল বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী মঙ্গলবার বৈঠকটি হওয়ার কথা। এতে যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা তুলে ধরা হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে এ বিষয়ে একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত হতে পারে।
অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, বুধবারই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর প্রাথমিকভাবে বৈঠকের আমন্ত্রণ পাঠিয়েছে। একই সময়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও নিউইয়র্কে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে চান। তবে এখন পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে কোনো বৈঠক নির্ধারিত হয়নি।
এদিকে বুধবার ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান সরাসরি ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং একটি চুক্তি করতে চায়।
তার ভাষ্য, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধও শেষের দিকে এগোচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ কোন পর্যায়ে রয়েছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আশা করি, আমরা যুদ্ধের শেষ পর্যায়ের দিকে রয়েছি।’
নর্থ ক্যারোলিনায় অবতরণের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘তারা একটি চুক্তি করতে চায়। এখন দেখা যাক, সেটি কীভাবে এগোয়।’
ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, নাকি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে করেছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইরান সরাসরি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্প এসব মন্তব্য করলেন। এর আগে গত জুনে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। বৃহত্তর শান্তি চুক্তির পথ তৈরির অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি আবার খুলে দেওয়ার বিষয়ে ওই সমঝোতায় একটি চুক্তির পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে বড় ধরনের হামলা শুরু করে। এসব হামলায় সরকারি ভবন, সামরিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু করা হয়। সরকারিসেবা খুঁজুন
জবাবে ইরান ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এরপর সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে।
বৈঠকে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের নেতারা অথবা পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নিতে পারেন। অন্য আরব ও মুসলিম দেশগুলোর নেতাদেরও বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন