ভারতের রাজধানীর যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি-সহ (সিজেপি) বিভিন্ন সংগঠনের কর্মসূচির দিন, শনিবার (১০১ অক্টোবর) দিল্লিতে ট্রেন, মেট্রো চলাচল বন্ধ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছে। শুক্রবার সেই মামলার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্য, ‘‘মাছি মারতে কেউ হাতুড়ি চালায় না!’’
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, শহরের এক প্রান্ত থেকে মানুষজন অন্য প্রান্তে যাতায়াত করেন। তাদের কথাও ভাবতে হবে।
যাত্রীদের প্রাথমিক পরিষেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য সেই সুবিধা থেকে মানুষকে বঞ্চিত করা যায় না। শনিবার মেট্রো, ট্রেন পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে ভাবনাচিন্তা করতে বলেছে তারা।
ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে বিতর্কিত জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা চেয়ে শনিবার দিল্লিতে কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সিজেপি, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং ছাত্র সংগঠন।
ওই দিন দিল্লিগামী বহু ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। মেট্রো স্টেশন বন্ধ করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তারা যাতে যন্তর মন্তরে পৌঁছোতে না পারেন, সে কারণে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
এই অভিযোগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি। তার হয়ে আদালতে শুনানি করছেন আইনজীবী কপিল সিব্বল।
সিব্বল আদালতে বলেন, সব ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। মেট্রো স্টেশন বন্ধ। কোথাও যেতে পারবেন না! এ সব কী হচ্ছে আমার দেশে? শনিবার শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি কান্ত সলিসিটর জেনারেলের উদ্দেশে বলেন, সব মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথ বন্ধ রাখার কথা যেভাবে বলা হয়েছে, তাতে আমরা উদ্বিগ্ন। কোনও আন্দোলনকারী বা নির্দিষ্ট কোনও ব্যক্তির কথা ভেবে আমরা উদ্বিগ্ন নই। বরং রোজ যে হাজার হাজার মানুষ দিল্লি থেকে কাজের জন্য গুরুগ্রাম, গ্রেটার নয়ডা, পূর্ব দিল্লি, দক্ষিণ দিল্লিতে যান, আমরা তাদের জন্য উদ্বিগ্ন।
তবে একই সঙ্গে প্রশাসন নিরাপত্তার জন্য যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তাকেও সমর্থন করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, আইন কার্যকর করেন যারা, তারা এ ধরনের বিধিনিষেধ জারি করতেই পারেন। আপনারা চাইলে অনিয়ন্ত্রিত কার্যকলাপ রুখতেই পারেন। তার মানে এই নয় যে, আপনারা সব কিছু বন্ধ করে দেবেন, মানুষের যাতায়াতের কোনও ব্যবস্থাই থাকবে না।
প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, সবার নিজের গাড়ি বা যানবাহন নেই। মানুষজন যাতায়াতের জন্য তাই সরকারি যানবাহনের উপরেই নির্ভর করে। সেক্ষেত্রে এ ধরনের পদক্ষেপ অবাস্তব।
সুপ্রিম কোর্টের এই বক্তব্যের পরে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আশ্বাস দিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলবেন। তার কথায়, রেল এবং মেট্রো স্টেশন (নিয়ে যে পদক্ষেপ করা হয়েছে) সংক্রান্ত বিষয়ে আমি সরকারের সঙ্গে কথা বলব। পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, শনিবার দিল্লির যে সব রাস্তা বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে, তা-ও পর্যালোচনা করা দরকার। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, মেট্রোর সংখ্যা কমানো যেতে পারে, তবে বন্ধ করা যায় না।
বেঞ্চের কথায়, মেট্রো এবং ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে মানুষের কোনও সমস্যা না হয়। আমরা সেই নির্দেশ দিচ্ছি। সংশোধিত নির্দেশিকাও জারি করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের সমস্যা না হয়।
শনিবার যন্তর মন্তরে কর্মসূচির আগে হাওড়া এবং শিয়ালদহ থেকে দিল্লিগামী রাজধানী এক্সপ্রেস বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার সেই ট্রেন ছাড়ার কথা থাকলেও ছাড়ছে না।
কেবল পশ্চিমবঙ্গ নয়, দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকেও নয়াদিল্লি এবং হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনগামী বহু দূরপাল্লার মেইল এবং এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাপথবদল এবং কিছু ক্ষেত্রে বাতিল করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রদেশের ইটারসী জংশনে ১২৭৭৯ গোয়া এক্সপ্রেস-সহ একাধিক ট্রেন থামিয়ে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস ফেডারেশন (এআইএসএফ) এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের জোর করে ট্রেন থেকে নামিয়ে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ট্রেন চলাচলে এই ধরনের আচমকা বিধিনিষেধের ফলে সাধারণ যাত্রীরাও দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ। সেই বিষয়ে মামলায় সুপ্রিম কোর্ট নিজের পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন