রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। শুক্রবার রাতে দুই দেশের বিভিন্ন এলাকায় চালানো ড্রোন ও বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে হামলার বিষয়ে দুই পক্ষই পরস্পরকে দায়ী করেছে।
রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলের গভর্নর ইউরি স্লিউসার জানান, রাতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় তাগানরোগ ও আজভ শহরে পাঁচজন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। ড্রোনের আঘাতে আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিবেশী ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কনদ্রাতিয়েভ জানান, সেভারস্কি জেলায় ড্রোন হামলায় একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত এবং দুটি শিল্প স্থাপনায় আগুন লাগে। পরে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই হামলায় তিনজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় ২৬ হাজার বাসিন্দা।
ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ দাবি করেছে, সেভারস্কি জেলার ইলস্কি তেল শোধনাগারে রাতের হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ইউক্রেনের ছোড়া ৬৪৫টি ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে। এসব ড্রোন রাশিয়ার ১৩টি অঞ্চল, কৃষ্ণ সাগর, আজভ সাগর ও ক্রিমিয়ার আকাশসীমায় ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এ ছাড়া দারনিতস্কি জেলায় একটি গুদামের কাছে এবং সভিয়াতোশিনস্কি জেলায় একটি শপিং সেন্টারের এলাকায় আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। বৃহত্তর কিয়েভ অঞ্চলের বোরিসপিল জেলায় একটি গুদামে আগুনে আরও দুজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ।
ওদেসা অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ কিপার জানান, বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা হয়েছে। এতে বেশ কয়েকটি বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট ভবন, একটি হোটেল-রেস্তোরাঁ কমপ্লেক্স এবং একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় দুজন নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, গত রাতে রাশিয়া ১৭৩টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালায়। এর মধ্যে ১৩৪টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে তারা।
তবে চলমান যুদ্ধের কারণে রাশিয়া ও ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দেওয়া ড্রোন ভূপাতিত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন।
হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি রাশিয়া ও দেশটির যুদ্ধ প্রচেষ্টায় আর্থিক সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে ‘লিন্ডসে গ্রাহাম অ্যাক্ট’ প্রয়োগের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানান।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামো, বন্দর, লজিস্টিকস কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা জোরদার করেছে। উভয় পক্ষই বেসামরিক স্থাপনায় ইচ্ছাকৃত হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন