চাকুরী ছেড়ে দিনাজপুরে মহিষের খামার গড়ে তুলে সফলতা পেয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা মীর মহসিন আলী চৌধুরী। নিজের জমিতে কিছু করার লক্ষ্যে ২০১৪সালে চাকরি ছাড়েন তিনি। নিজ এলাকা কাহারোল উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে ফিরে এসে গড়ে তোলেন পশু মোটাতাজাকরণের উদ্যোগ, যা বর্তমানে দেড় কোটি টাকার প্রকল্পে পরিণত হয়েছে।
মাত্র ১৩টি গরু নিয়ে যাত্রা শুরু করেন মহসিন এবং এখন খামারে পশুর সংখ্যা ৭৪। প্রতি তিন মাস অন্তর পশু মোটাতাজা করে বাজারে বিক্রি করতেন এবং লাভের অর্থ ব্যক্তিগত ভোগে না খাটিয়ে পুনরায় খামারে লাগাতেন। এভাবে গরুর পরিধি বাড়ার পর সেই লভ্যাংশ দিয়েই তিনি প্রথমে পঁাচটি মহিষ কেনেন। ধারাবাহিক ব্যবসায়িক কৌশলে একটি থেকে দুটি, দুটি থেকে চারটি করে বাড়তে বাড়তে তার প্রতিষ্ঠিত দপৃথ্বী অ্যাগ্রোদ এখন জেলার অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক মহিষের খামারে রূপ নিয়েছে। গরু ও মহিষের খাদ্য নিশ্চিত করতে উদ্যোক্তা নিজেই উদ্যোগী হয়েছেন। নিজস্ব জমিতে নেপিয়ার ঘাস ও ভুট্টার আবাদ করছেন তিনি, পাশাপাশি রয়েছে ভুসি প্রস্তুতের সরঞ্জাম। পশুদের খাদ্যতালিকায় কঁাচা ঘাস, ভুট্টা, ভুসি ও খড় নিয়মিত রাখা হয়। খামারের শেডে পশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পর্যাপ্ত ফ্যান এবং উচ্চ তাপমাত্রায় শরীর ঠান্ডা রাখতে সার্বক্ষণিক পানি ছিটানোর পাইপলাইন বসানো হয়েছে।
এই উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। খামারে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন আটজন স্থানীয় কর্মী। নিয়মিত গোসল করানো, খাবার পরিবেশন, গোবর অপসারণ এবং স্বাস্থ্যের নজরদারির মতো কাজগুলো তারা সমন্বিতভাবে করেন। খামারের কর্মী সাদিকুল ইসলাম জানান, মহিষগুলোর পরিচর্যা ও খামার পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তাদের মতো বেকার যুবকদের কাজের নির্ভরযোগ্য সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
উদ্যোগটি নিয়ে মীর মহসিন আলী চৌধুরী বলেন, সততা, নিয়মানুবর্তিতা এবং সঠিক লক্ষ্য স্থির রেখে কাজ করলে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। তিনি জানান, চাকরি ছেড়ে নিজের পরিকল্পনায় কাজ শুরু করার পর এখন নিয়মিত খামারে সময় কাটাতে গিয়ে মানসিক স্বস্তি পান। খামারটি সামনে আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি এলাকার আরও মানুষের আয়ের পথ তৈরি করাই তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বলে জানান তিনি।
কাহারোল উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকেও খামারটিতে প্রয়োজনীয় নজরদারি রাখা হচ্ছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.মো. আবু সরফরাজ হোসেন জানান, খামারিদের নিয়মিত কারিগরি প্রশিক্ষণ, ভ্যাকসিন ও সরকারি মূল্যে কৃমিনাশক ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, মহসিন একজন উদ্যমী খামারি হিসেবে নিয়মিত কার্যালয়ে এসে পশু পালনকে লাভজনক করার আধুনিক পরামর্শ গ্রহণ করেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন