দিনাজপুরের বীরগঞ্জে
আগাম জাতের আমন ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। অল্প সময়ে ধান ঘরে তুলতে পারায় আগাম জাতের ধান চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কৃষকের কাছে। বিশেষ করে এই ধান কাটার পর একই জমিতে আলু, সরিষা, পেঁয়াজসহ অন্যান্য ফসল ফলিয়েও লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। ইতিমধ্যে আমন ধান কাটার নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।৩ নভেম্বর সোমবার উপজেলার শিবরামপুর,পলাশবাড়ী,ভোগনগরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের পাশাপাশি পাল্টাপুর ইউনিয়নের কাজল গ্রামে মাঠজুড়ে পাকা ধান কাটার দৃশ্য চোখে পড়ছে। সোনালি ধান ঘরে তুলতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন কৃষকেরা।
চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় বিনা ধান-১৭, ব্রি ধান-৭৫, ব্রি ধান-১০৩ সহ বিভিন্ন উফশী ও হাইব্রিড জাতের আমন ধান চাষ করেছেন কৃষকেরা। ভালো ফলন ও স্থানীয় আবহাওয়ার উপযোগিতার কারণে এসব জাতের ধান চাষে আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে উন্নত জাতের ধান চাষের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকেরা লাভের আশাও করছেন।
বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম জানান, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় ২৯ হাজার ৫৭৮ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এ পর্যন্ত ৯ হাজার ১৭৭ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৩১ শতাংশ।
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে কাটা ধানের মধ্যে ৩ হাজার ৫১৭ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড এবং ৫ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে উফশী জাতের ধান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য জমির ধানও পাকতে শুরু করেছে।
পাল্টাপুর ইউনিয়নের কৃষক আবু তাহের জানান, সময়মতো ধান কেটে ঘরে তুলতে পারলে কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে।
মরিচা ইউনিয়নের মাহাতাবপুর গ্রামের কৃষক রতন দাস জানান, ফলন ভালোই হয়েছে। রোগবালাই একেবারে ছিল না। আমন ধান কেটে ঘরে তোলা ও নবান্ন উৎসবকে ঘিরে কৃষকের পাশাপাশি গ্রামীণ নারীদের ব্যস্ততা বেড়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ২৮ শতাংশ জমিতে ধান টাকা শেষ হয়েছে। হাটে প্রকার ভেদে আমন ধান বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা মণ।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন