দিনাজপুরের বীরগঞ্জে আগাম জাতের ফুলকপি চাষ ও নিবিড় পরিচর্যায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকেরা। আগাম জাতের ফুলকপি বাজারে তুলে ভালো দাম পাওয়ার আশায় জমিতে নিয়মিত আগাছা দমন, সুষম সার প্রয়োগ, সেচ প্রদান ও বালাই ব্যবস্থাপনায় ব্যস্ত রয়েছেন তারা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছর একই সময়ে উপজেলায় আগাম ফুলকপির আবাদ হয়েছিল ৯২ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে আগাম ফুলকপির আবাদ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
উপজেলার ভোগনগর ও সাতোর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি আগাম ফুলকপির চাষ লক্ষ করা যাচ্ছে। এসব এলাকার মাঠজুড়ে এখন কেবলই সবুজ ফুলকপির চারার সমারোহ। কৃষকেরা জানান, আগাম ফুলকপি দ্রুত বাজারে তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। তাই আশানুরূপ ফলন নিশ্চিত করতে চারা রোপণের পর থেকেই নিয়মিত পরিচর্যা করে যাচ্ছেন তাঁরা।
উপজেলার প্রাণনগর এলাকার কৃষক মো. রফিক ইসলাম বলেন, এবার আগাম জাতের ফুলকপি চাষ করেছি। বর্তমানে জমিতে আগাছা দমন ও অন্যান্য পরিচর্যার কাজ করছি। আগাছা পরিষ্কার রাখলে ফুলকপির চারাগুলো সতেজ ও দ্রুত সতেজভাবে বেড়ে উঠবে। বাম্পার ফলন হলে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভের আশা করছি।
জানা গেছে, স্থানীয় কৃষকেরা এবার রত্ন, নাসা-৪৫ ও হোয়াইট মার্বেলসহ বিভিন্ন উচ্চফলনশীল আগাম জাতের ফুলকপি চাষ করছেন।
সার্বিক বিষয়ে বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে বীরগঞ্জ উপজেলায় মোট ৫৯৩ হেক্টর জমিতে ফুলকপি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যে ১৭০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের ফুলকপির আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে সরাসরি গিয়ে কৃষকদের সার ও সেচ প্রয়োগ এবং বালাই ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দিচ্ছেন। বর্তমানে মাঠে আগাম ফুলকপির ক্ষেতের অবস্থা বেশ সন্তোষজনক।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন