ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, কাবাডি, সাঁতার ও অ্যাথলেটিকসসহ ৭২টি ইভেন্টে ১ হাজার ১৫৪ শিক্ষার্থী-অ্যাথলেটের অংশগ্রহণে দিনাজপুরে শুরু হয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬। রংপুর বিভাগের বিভিন্ন কলেজের জেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান ও স্বর্ণপদক অর্জনকারীরা এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে ও দিনাজপুর সরকারি কলেজের বাস্তবায়নে তিন দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা আগামী ৬ অক্টোবর ফাইনাল খেলার মধ্য দিয়ে শেষ হবে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে দিনাজপুর সরকারি কলেজ মাঠে বর্ণাঢ্য আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় পতাকা, ক্রীড়া পতাকা ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ১ হাজার ১৫৪ জন শিক্ষার্থী ও অ্যাথলেটের মধ্যে ৭৫৪ জন ছাত্র এবং ৪০০ জন ছাত্রী। বিভিন্ন ইভেন্টে বিভাগীয় পর্যায়ে যারা প্রথম হয়ে স্বর্ণপদক অর্জন করবেন, তারা পরবর্তী সময়ে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
এর আগে কলেজের অডিটোরিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) নাজিম উদ্দিন আহমেদ, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা দপ্তরের পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও শুদ্ধাচার দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ কামাল হাছান, দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা ও উপাধ্যক্ষ মো. কামরুল হাসান। স্বাগত বক্তব্য দেন দিনাজপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. লুৎফর রহমান। সঞ্চালনায় ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল করিম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করতে গতানুগতিক শিক্ষার বাইরে গিয়ে জীবনমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। দিনাজপুর সরকারি কলেজের বর্তমান অবকাঠামোগত পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে ডা. জাহিদ আরো বলেন, কলেজটির বর্তমান অবস্থাই প্রমাণ করে, যারা বিগত ২০ বছর বিভিন্নভাবে ক্ষমতায় ছিলেন, তারা শিক্ষাঙ্গনের উন্নয়ন চাননি। তিনি বলেন, দিনাজপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীর সংখ্যা মোট ২৫ হাজার। এত বড় একটি কলেজের ক্যাম্পাস দেখে তিনি নিজেই হতাশ হয়েছেন। কলেজটি দেখে তার খুবই মন খারাপ হয়েছে এবং অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে মন আরও বেশি খারাপ হয়েছে। যে সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয়, তাদের দায়বদ্ধতা জনগণের কাছে থাকে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, ক্রীড়া খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। খেলোয়াড়দের পেশাগত স্বীকৃতির অংশ হিসেবে এরই মধ্যে ৩০০ খেলোয়াড়কে ক্রীড়া ভাতা দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের শেষ নাগাদ আরও খেলোয়াড় ও কোচকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। তিনি জানান, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর প্রথম ধাপ সফলভাবে শেষ হয়েছে। নির্বাচিত ৩০৬ জন উদীয়মান অ্যাথলেট বর্তমানে বিকেএসপিতে উন্নত প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। এছাড়া প্রতিটি জেলায় ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ এবং উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তিন মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে সক্ষম হচ্ছেন। কর্মসংস্থান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার দিকেও নজর দিতে হবে। তারা যেন সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে, সে লক্ষ্যেই কাজ করছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
দিনাজপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়ে ড. আমানুল্লাহ বলেন, আঞ্চলিক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা গেলে শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ আরও সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি বলেন, জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেই শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় পর্যায়ে এসেছে। এখান থেকে যারা ভালো করবে, তাদের জাতীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ তৈরি হবে।
এদিকে উদ্বোধনী আয়োজনকে ঘিরে দিনাজপুর সরকারি কলেজ মাঠে সকাল থেকেই ছিল উৎসবের আমেজ। বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী-অ্যাথলেট, শিক্ষক ও ক্রীড়াপ্রেমীদের উপস্থিতিতে মাঠজুড়ে তৈরি হয় প্রাণবন্ত পরিবেশ। প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্টে বিভাগীয় পর্যায়ে যারা প্রথম হয়ে স্বর্ণপদক অর্জন করবেন, তারা পরবর্তী সময়ে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। আগামী ৬ অক্টোবর ফাইনাল খেলার মধ্য দিয়ে শেষ হবে তিন দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন