কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পাতা খেলাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেয় লালঘাট ইয়ং স্টার ক্লাব। এরই ধারাবাহিকতায় দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী পাতা খেলার প্রতিযোগিতা।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার ৯ নং কুশদহ ইউনিয়নের লালঘাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তোফাজ্জল হোসেনের সভাপতিত্বে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুশদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম আনু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৯ নং কুশদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হাবিবুর রহমান ও মনোয়ার হোসেন। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
খেলা দেখতে আসা আফজাল হোসেন বলেন, “পাতা খেলা একসময় গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ছিল। কিন্তু কালের বিবর্তনে খেলাটি হারিয়ে গেছে। এখন এ ধরনের আয়োজন খুব একটা চোখে পড়ে না। তাই খবর পেয়ে এসে খেলা দেখলাম, উপভোগ করলাম। ভালোই লাগল।”
মাঠের মাঝখানে পাতারূপী একজন মানুষকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয় এ ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতা। নবাবগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ৮ টি তান্ত্রিক দল এতে অংশ নেয়।
প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি দলের তান্ত্রিকরা নিজ নিজ মন্ত্র ও কৌশল প্রয়োগ করে মাঠের কেন্দ্রস্থলে থাকা পাতাকে নিজেদের দিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন। যে দল পাতাকে নিজেদের সীমানার দিকে টেনে নিতে সক্ষম হয়, সেই দল পায় এক পয়েন্ট। এভাবে একের পর এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ।
শেষ পর্যন্ত পয়েন্টের ভিত্তিতে বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কার হিসেবে একটি খাসি ও রাজহাঁস তুলে দেওয়া হয়।
খেলাকে ঘিরে মাঠজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। অনেকের কাছে এ আয়োজন ছিল শৈশবের হারিয়ে যাওয়া স্মৃতিকে ফিরে পাওয়ার মতো।
প্রতিযোগিতায় খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে দর্শকদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক আগ্রহ। ঐতিহ্যবাহী এ খেলাকে ঘিরে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে, সময়ের পরিবর্তনে হারিয়ে গেলেও গ্রামবাংলার লোকজ খেলাধুলার প্রতি মানুষের আগ্রহ এখনো রয়েছে।
আয়োজকরা জানান, নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং হারিয়ে যেতে বসা পাতা খেলাকে পুনরুজ্জীবিত করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন