আধুনিক বিদ্যুতের আলোয় এখন ঝলমল করে গ্রামবাংলার রাত; হাতে হাতে স্মার্টফোন আর ঘরে ঘরে টেলিভিশন-ইন্টারনেট। যান্ত্রিক এই বাস্তবতায় ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামে ফিরে এসেছিল বহু বছর আগের চেনা সেই আবহ।
কুপি ও হারিকেনের মৃদু আলো, মাটিতে বিছানো মাদুর আর পাটিতে গোল হয়ে বসে আছেন নানা বয়সী মানুষ। কারও হাতে স্মার্টফোন নেই, নেই টেলিভিশনের কৃত্রিম কোলাহল; সবার গভীর মনোযোগ সুর করে পড়া ঐতিহ্যবাহী পুঁথির ছন্দে।
মঙ্গলবার রাতে উপজেলার ১ নম্বর ভোমরাদহ ইউনিয়নের সেনুয়া চৌরাস্তার ব্র্যাক স্কুল মাঠে লোকসংস্কৃতির এই ব্যতিক্রমী আসর অনুষ্ঠিত হয়। বিলুপ্তপ্রায় লোকজ সাহিত্য ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে স্থানীয় ‘অগ্রদূত পল্লী পাঠাগার’ তাদের ১২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আয়োজকরা জানান, প্রযুক্তির যুগে আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার প্রাচীন সাহিত্য ও সংস্কৃতি আজ প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বাংলার লোকজ ঐতিহ্য ও ইতিহাসের চর্চা টিকিয়ে রাখাই তাঁদের এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
পুঁথি পাঠের আসরে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মাসুদ, পীরগঞ্জ শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি সাহেব আলী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান কামু, দবিরুল ইসলাম, নবাব হোসেন এবং বিএনপি নেতা আব্দুল আলিম ও মোস্তফা আলম কালুসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি গ্রামবাংলার হারানো সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখতে নিয়মিত এ ধরনের আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন