দিনাজপুরের বিরল উপজেলা পরিষদ চত্বর এখন এক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলা ভূমি। চিরচেনা সরকারি দপ্তরের চিরাচরিত ব্যস্ত ও রসহীন অবয়ব বদলে সেখানে তৈরি হয়েছে এক সুন্দর, পরিপাটি ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। পরিষদের মূল ফটকে গলে ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখ জুড়িয়ে যায় হরেক রকমের সাজানো-গোছানো ফুলের বাগান। উপজেলার এই নান্দনিক পরিবর্তন ও সবুজায়নের পেছনে মূল কারিগর হিসেবে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছেন বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: রেজাউল ইসলাম।
সরেজমিনে বিরল উপজেলা পরিষদ চত্বর ঘুরে দেখা গেছে, আগে যেখানে পতিত বা অবহেলিত জায়গা ছিল, সেখানে এখন শোভা পাচ্ছে দেশী-বিদেশী নানা জাতের ফুলের গাছ। সারিবদ্ধভাবে সাজানো বাগানে ফুটেছে রকমারি ফুল। লাল, হলুদ, সাদা আর বেগুনী ফুলের সমারোহে পুরো পরিষদ চত্বরে এক উৎসবমুখর ও স্নিগ্ধ পরিবেশ বিরাজ করছে। চমৎকার বিন্যাস ও নিয়মিত পরিচর্যার কারণে বাগান গুলো দিন দিন আরও দৃষ্টি নন্দন হয়ে উঠছে। পরিষদে বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে আসা এলাকার সাধারণ জনগণ এই পরিবর্তন দেখে দারুণ ভাবে আকৃষ্ট হচ্ছেন। প্রতিদিন সেবা নিতে আসা শত শত মানুষ কাজের ফাঁকে এই ফুলের বাগানের পাশে দাঁড়িয়ে ক্লান্তি দূর করছেন। অনেকেই আবার এই সুন্দর মুহূর্তটিকে ক্যামেরাবন্দী করতে সেলফি বা ছবি তুলছেন।
উপজেলায় সেবা নিতে আসা কয়েকজন সাধারণ নাগরিকের সাথে কথা বললে তারা অত্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, আগে সরকারি অফিসে আসলে একটা ভীতি বা এক ঘেয়েমি কাজ করত। কিন্তু এখন বিরল উপজেলা পরিষদে ঢুকলেই মন ভালো হয়ে যায়। পার্কের মতো সুন্দর আর পরিপাটি পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। অফিসারদের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ চত্বরকে সতেজ, সুন্দর এবং জনবান্ধব করে গড়ে তোলার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা নেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: রেজাউল ইসলাম। তাঁরই প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান, সঠিক দিক-নির্দেশনা এবং নিয়মিত তদারকির ফলেই আজ বিরল উপজেলা পরিষদ চত্বরটি এত সুশোভিত রূপ ধারণ করেছে। এর ফলে এক দিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি দপ্তরের প্রতি সাধারণ মানুষের এক ধরণের ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি হচ্ছে।
এই নান্দনিক উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: রেজাউল ইসলাম বলেন, সরকারি দপ্তর মানেই শুধু ফাইলপত্র আর কাজের ব্যস্ততা নয়। আমরা চেষ্টা করেছি একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও মনোরম পরিবেশ তৈরি করতে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা সেবাগ্রহীতারা এখানে এসে মানসিক ভাবে স্বস্তি পান। পরিবেশ সুন্দর থাকলে কাজের গতি ও মান দুটোই বাড়ে। এই বাগান রক্ষায় এবং পরিষদের সৌন্দর্য ধরে রাখতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, বিরল উপজেলা পরিষদের এই ব্যতিক্রমী ও সৌন্দর্যবর্ধন মূলক উদ্যোগ অন্যান্য সরকারি দপ্তরের জন্যও একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হতে পারে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন