ঝলমলে শোরুম নেই, নেই কোনো বর্ণিল সাজসজ্জা কিংবা নতুন কাপড়ের সুবাস। চটের বস্তা পলিথিন বিছিয়ে মাটির ওপর সাজানো রয়েছে শার্ট, প্যান্ট গেঞ্জির সহ ছোট বড় বয়সীদের জন্য কাপড়ে স্তূপ। আপাতদৃষ্টিতে মলিন মনে হলেও, এই দোকানগুলোই যেন গ্রামীণ জনপদের হাজারো মানুষের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের এক অন্যরকম আশ্রয়স্থল।
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ হাটে সপ্তাহের প্রতি বুধবার ও রবিবার এই হাটবার এলেই হাটের প্রবেশ পথেই চোখে পড়ে এক হৃদয়ছোঁয়া দৃশ্য। কৃষক, দিনমজুর, ভ্যানচালক কিংবা গ্যারেজকর্মী, সমাজের খেটে খাওয়া মানুষগুলো ভিড় জমান এসব পুরোনো কাপড়ের দোকানে। নতুন পোশাক কেনার সামর্থ্য যাদের নেই, কিংবা কর্মক্ষেত্রের কঠোরতায় নতুন কাপড় নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে, তাঁদের কাছে এই পুরোনো কাপড়গুলোই পরম স্বস্তির ও ভরসার নাম।
এই হাটে পুরনো কাপড় কিনতে আসা কৃষি শ্রমিক সাদেকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে কাপড়ের দাম অনেক বেশি দিনে যা আয় করি তা দিয়ে কোন মতো সংসার চলে তাই বাধ্য হয়ে কম দামে হাটে পুরনো কাপড় কিনতে আসলাম কারণ আমরা তো রোজ মাঠে রোদে পুড়ে কৃষি কাজ করি। নতুন কাপড় কয়েকদিনেই নষ্ট হয়ে যায়। সেই সাথে এখানে ৩০-৪০ টাকায় গেঞ্জি, শার্ট, প্যান্ট ১০০-১৫০ টাকায় ভালো মানের কাপড় পাওয়া যায়।
গ্যারেজকর্মী দিপু বলেন,আমি সারাদিন তেল, গ্রিজ আর লোহার কালির সঙ্গে লড়াই করতে হয় আমাকে নতুন জামা পরে গ্যারেজে কাজে নামলে এক দিনেই তা পরা যায় না। তাই কম দামে পুরোনো কাপড় কিনতে মাসে ৩-৪ বার আসি আর এই সুলভ মূল্যের পুরনো কাপড় আমার কাজের একমাত্র সঙ্গী।
শ্রমজীবী নিম্ন আয়ের মানুষের এই ভরসার যোগানদাতা বিক্রেতা মো. রবিউল ইসলাম জানান, আমি সৈয়দপুর থেকে পাইকারি দরে শার্ট,প্যান্ট,গেঞ্জি সহ নানান পুরনো কাপড় কিনে এনে বীরগঞ্জ সহ বিভিন্ন গ্রামীন হাটে বিক্রি করি। এই কাপড়ের চাহিদা ভালো থাকায় লাভ ভালো হয়।
বছরের পর বছর ধরে বীরগঞ্জের এই হাট মেহনতি মানুষের প্রতিদিনের কঠিন বাস্তবতায় এই পুরোনো কাপড়গুলোই হয়ে উঠেছে বেঁচে থাকার এক নির্ভরযোগ্য আশ্রয়।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন