সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, দেশে ধূমপান নিয়ন্ত্রণে আইন থাকলেও এর যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না। ধূমপান নিয়ন্ত্রণে শুধু আইন করলেই হবে না, মাঠপর্যায়ে সেই আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। ধূমপান থেকেই অনেক সময় মানুষ ধীরে ধীরে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ে। তাই মাদক প্রতিরোধের পাশাপাশি ধূমপান নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো জরম্নরি। প্রকাশ্যে ধূমপানের জন্য জরিমানার বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্ত্মবে সেই আইন কতটা প্রয়োগ হচ্ছে, সেটি গুরম্নত্ব দিয়ে দেখতে হবে। মোটরসাইকেল চালানোর সময় কিংবা রাস্ত্মার পাশে দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে অনেককেই ধূমপান করতে দেখা যায়। আইন অনুযায়ী এসব কর্মকা- নিষিদ্ধ।
রবিবার দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষ 'কাঞ্চন-১'-এ অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, প্রকাশ্যে ধূমপানের জন্য ৫০, ১০০ কিংবা ২০০টাকা জরিমানা করা হলেও এর একটি সামাজিক প্রভাব রয়েছে। মানুষ যখন দেখবে ধূমপানের জন্য জরিমানা হচ্ছে,তখন তাদের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি হবে এবং প্রকাশ্যে ধূমপানকে অপরাধ হিসেবে দেখার মানসিকতা গড়ে উঠবে। প্রতিটি ওয়ার্ড বা ইউনিয়ন পর্যায়ে মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করা যেতে পারে। এসব কমিটিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে মাদকের বিরম্নদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।
জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, দিনাজপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ মো. আখতারম্নজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. সাদিক রিয়াজ, দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হক।
এছাড়াও সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. জাহাঙ্গীর কবির, জেলা পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা, সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ মোঃ গোলাম রসুল রাখি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার রহমান কচিসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও কমিটির সংশিস্নষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সুদৃঢ় রাখতে মাদক, সন্ত্রাস, চোরাচালান, অপরাধ প্রবণতা এবং সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরম্নত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি জনসাধারণের জানমাল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা,অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পারস্পরিক সমন্বয় বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, জেলার শান্ত্মি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দিনাজপুরকে আরও শান্ত্মিপূর্ণ, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল জেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। সভায় জননিরাপত্তা ও জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরম্নত্ব দিয়ে সংশিস্নষ্ট সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানানো হয়।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন