বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। আমরা জনগণের কাছে তাদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই লক্ষে বিএনপি সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চ্যারিটি সংস্থার লাভ শেয়ার বিডি আয়োজিত সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্পের আওতায় রংপুর অঞ্চলের ২৫টি দুস্থ পরিবারের চা-ঘর (চায়ের দোকান) হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা ও সংকটে থাকা প্রশাসনকে নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। তবে এত বড় একটি ব্যবস্থাকে স্বল্প সময়ে পুরোপুরি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসন শেষে দেশ গঠনের সুযোগ এসেছে। ফ্যাসিস্ট সময়ে ৬০ লাখ মানুষের নামে মামলা, ২০ হাজার মানুষকে হত্যা ও ১৭০০ মানুষকে গুম করা হয়েছে, দেশে এখন সেই পরিস্থিতি নেই।
এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, দেশের ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি ও বিপর্যস্ত প্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে বর্তমান সরকার চেষ্টা করছে। এত তাড়াতাড়ি এসব বাস্তবায়ন হয় না, আমাদের হাতে কোনো আলাদিনের চেরাগ নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনের আগের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হচ্ছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম দাবি করেন, চার-পাঁচ মাসে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত ও বিপর্যস্ত প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার বিভিন্ন খাতে সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বিরোধী দল যে ভাষায় কথা বলছে সেটি গণতন্ত্রের ভাষা না। আমরা সবাই গণতন্ত্রের ভাষায় কথা বলি, গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত হতে দিই, জনগণের প্রতিনিধিকে কাজ করতে দিই। তাহলে দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে পারব। উন্নয়নের কাজ বাস্তবায়ন করতে সময় লাগে। এক-দুই দিনে উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন হয় না।
গণমাধ্যমের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে লিখতে না পারলেও এখন সত্য-মিথ্যা সবই লিখতে পারছে। বিএনপি সরকার দায়িত্ব পাওয়ার পর দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে, সংসদে কথা বলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পত্রিকায় ইচ্ছামতো সাংবাদিকরা লিখতে পারছেন। আর সোস্যাল মিডিয়াতে তো যা ইচ্ছা তাই বলা হচ্ছে।
একই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ক্ষমতাকে টাকা বানানোর মেশিন হিসেবে ব্যবহার না করার আহ্বান জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।
লাভ শেয়ার বিডির পরিচালক জাহিদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ অন্যরা।
আলোচনা সভা শেষে রংপুর অঞ্চলের ২৫টি সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তির মাঝে ২৫টি চা দোকান ঘর হস্তান্তর করা হয়। এ সময় রংপুর মহানগর ও জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন