গাইবান্ধার সদর উপজেলায় মানসিক ভারসাম্য হারানো এক প্রবীণ নারীকে চুরির দায় চাপিয়ে গাছে ঝুলিয়ে শারীরিক নিপীড়নের একটি পৈশাচিক ঘটনা সামনে এসেছে। গত সোমবার (২ নভেম্বর) লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের বালাআটা গোবিন্দপুর গ্রামে ঘটা এই নিষ্ঠুরতার দৃশ্য বৃহস্পতিবার ফেসবুকে ভাইরাল হলে দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
আহত ওই বয়োবৃদ্ধার নাম গোলাপী বেগম (৬৫), যিনি স্থানীয় মৃত মজিবর রহমানের স্ত্রী। আর অমানবিক এই নির্যাতনের প্রধান অভিযুক্ত হলেন প্রতিবেশী সাদা মিয়া (৩৫), যিনি মৃত দারোগ আলীর সন্তান।
স্থানীয়দের বিবরণে জানা যায়, গত সপ্তাহের শুরুর দিকে আকস্মিক চুরির অভিযোগ তুলে অসহায় গোলাপী বেগমকে বাড়ি থেকে ধরে নেওয়া হয়। এরপর উঠোনের একটি গাছের সঙ্গে তার হাত ও পা শক্ত করে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলেন সাদা মিয়া ও তার সহযোগীরা। প্রকাশ্য দিবালোকে চলত এই অমানুষিক মারধর। ঠিক কী চুরি হয়েছিল কিংবা আদৌ কোনো ঘটনা ঘটেছিল কি না, সে সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১৪ সেকেন্ডের একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, গাছের সঙ্গে রূহহীনভাবে বেঁধে রাখা ওই নারী যন্ত্রণায় চিৎকার করছেন আর নির্যাতনকারীরা চড়-থাপ্পড় ও লাঠিপেটা করছে।
স্থানীয়রা পরে তাকে উদ্ধার করে গুরুতর জখম অবস্থায় গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে হাসপাতালের মূল ওয়ার্ডে জায়গা না পেয়ে অতিরিক্ত ২২ নম্বর শয্যায় করিডোরে শুয়ে তাকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স স্বপ্না রানী গণমাধ্যমকে জানান, ওই নারী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হলেও বর্তমানে চিকিৎসায় কিছুটা উন্নতি করেছেন এবং নিয়মিত খাবার খাচ্ছেন।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা জানিয়েছেন, মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং ভুক্তভোগী নারী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) আসিফ রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন