দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ের মধ্যেই অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পলস্নী বিদ্যুতের গ্রাহকরা। তাদের অভিযোগ, দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলেও চলতি মাসে অনেকের বিল দ্বিগুণ-তিনগুণ বেড়ে এসেছে। এছাড়া পরিশোধিত বিল বকেয়া দেখানো, গ্রাহকের তথ্যে ভুল এবং বিলিং-সংক্রান্ত্ম নানা অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে।
ঘোড়াঘাট উপজেলার রানীগঞ্জ, বলগাড়ী, ওসমানপুর, পালশাসহ বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকরা জানান, আগে যেখানে মাসিক বিল ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকার মধ্যে থাকত, সেখানে এবার ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত্ম বিল এসেছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, কয়েক বছর আগে পরিশোধ করা বিলও নতুন করে বকেয়া দেখানো হয়েছে। নিয়মিত বিকাশে বিল পরিশোধের পরও পরবর্তী মাসে বকেয়া দেখানোর ঘটনাও ঘটছে। দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে জনজীবনের পাশাপাশি কৃষি, ব্যবসা ও স্বাস্থ্যসেবাও ব্যাহত হচ্ছে।
ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সের ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রিয়াঙ্ক কুন্ডু বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালে ভর্তি রোগী, শিশু ও বয়স্করা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) ফেরদৌস আলম জানান, জুন ও জুলাই মাসে গরম বেশি থাকায় বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় বিল কিছুটা বেশি আসতে পারে।
তবে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের মুখে দ্বিগুণ বিলের ভৌতিক কান্ড নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সাব-স্টেশনের ওপর দায় চাপিয়ে বলেন, বড়পুকুরিয়া ফিডারের আওতাধীন এলাকায় কিছুটা সমস্যা রয়েছে, তবে পলাশবাড়ী ফিডারের দিকের অবস্থা তুলনামূলক ভালো।
এ অবস্থায় ভুক্তভোগী গ্রাহকরা 'ভৌতিক' বিলের নিরপেক্ষ তদন্ত্ম, ভুল বিল সংশোধন এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সংশিস্নষ্ট কর্তৃপক্ষের জরম্নরি হস্ত্মক্ষেপ দাবি করেছেন।