দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে তরুণদের মেধা, সৃজনশীলতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগানোর অঙ্গীকার নিয়ে আজ ১ নভেম্বর পালিত হচ্ছে জাতীয় যুব দিবস। তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি, আত্মকর্মসংস্থানে উৎসাহিত করা এবং উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই প্রতিবছর দিবসটি উদ্যাপন করা হয়।
এবারের জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে চাকরি মেলা, যুব পুরস্কার বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য—‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, যুবসমাজ একটি দেশের প্রাণশক্তি এবং উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বাংলাদেশের সব বড় গণতান্ত্রিক অর্জনে তরুণরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
তিনি আরও বলেন, যুবসমাজকে দক্ষ ও উৎপাদনশীল জনশক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব হলে স্বনির্ভর, উন্নত ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার অগ্রযাত্রা আরও গতিশীল হবে।
তিনি আরও বলেন, সংগঠিত, দক্ষ ও অঙ্গীকারবদ্ধ যুবসমাজ দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। তরুণদের মানসম্মত শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুবসমাজ যেকোনো জাতির প্রাণশক্তি ও অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, জাতীয় সংকট উত্তরণ এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের অবদান অনস্বীকার্য।
তিনি বলেন, প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন বর্তমান বিশ্বে যুবসমাজের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তরুণদের আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ হতে হবে।
এবারের জাতীয় যুব দিবসের অন্যতম আকর্ষণ চাকরি মেলা। এতে ৫৫টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। মেলার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে তিন হাজার থেকে পাঁচ হাজার কর্মপ্রত্যাশী তরুণের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ ছাড়া জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সারা দেশে ১২ হাজার পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে।
দিবসটি উপলক্ষে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরসহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচি পালন করছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, র্যালি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম, খাল খনন, রক্তদান, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং যুবঋণ বিতরণ। এ ছাড়া সফল তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্মাননা এবং প্রশিক্ষণ ও সনদ বিতরণের আয়োজনও রয়েছে।
বর্তমানে বেকারত্ব, দক্ষতার ঘাটতি, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো এবং কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা যুবসমাজের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এসব মোকাবিলায় কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ, শ্রমবাজারের চাহিদাভিত্তিক দক্ষতা অর্জন এবং উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা বাড়ানো জরুরি।
তরুণদের শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে। তাদের মেধা, উদ্ভাবনী শক্তি ও নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে পারলে দেশের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে। জাতীয় যুব দিবস সেই সম্ভাবনা ও দায়িত্বের কথাই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন