আজকের প্রশিক্ষণ, আগামীর সমৃদ্ধি’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রংপুরে প্রশিক্ষিত যুব ও যুব মহিলাদের কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে উদ্যোগ নিয়েছে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (ইআইটি) রংপুর। এর অংশ হিসেবে ৫০ জন প্রশিক্ষিত যুব ও যুব মহিলার হাতে কর্মসহায়ক যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন ট্রেডে ২৫ জনের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে নগরীর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বেকার যুব ও যুব মহিলাদের মধ্যে কর্মসহায়ক যন্ত্রপাতি বিতরণ ও চাকরি প্রদান উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
সম্মানিত অতিথি ছিলেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (ইআইটি) রংপুরের পরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল আলম নাজু। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের এসআইসিআইপি কর্মসূচির সহকারী নির্বাহী প্রোগ্রাম পরিচালক ও উপসচিব সোহেল মাহমুদ, ইনফরমাল সেক্টর ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিলের মির্জা নুরুল গনিত শোভন, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন, রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক অনিরুদ্ধ কুমার রায়, রিহ্যাবের সচিব ও চিফ কো-অর্ডিনেটর কাজী আবুল কাশেম আবেগ, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামু, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, চিফ কো-অর্ডিনেটর মুরাদ হোসেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর রংপুরের উপপরিচালক আব্দুল ফারুক এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর রংপুরের উপপরিচালক সেলোয়ারা বেগম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আসাদুল হাবিব দুলুর মাধ্যমে প্রশিক্ষিত ৫০ জন যুব ও যুব মহিলার মধ্যে কর্মসহায়ক যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হয়। এসব উপকরণ কাজে লাগিয়ে প্রশিক্ষিতরা নিজ নিজ দক্ষতা অনুযায়ী আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা ২৫ জনের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, প্রশিক্ষণকে শুধু সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে যুবসমাজকে কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের পথে এগিয়ে নিতে হবে। দক্ষ জনশক্তি তৈরি হলে বেকারত্ব কমার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করাই হতে পারে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম ভিত্তি।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে চাকরির পেছনে না ছুটে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। প্রশিক্ষিত যুবক-যুবতীদের হাতে প্রয়োজনীয় কর্মসহায়ক উপকরণ তুলে দিলে তারা প্রশিক্ষণকে বাস্তব কাজে রূপ দিতে পারবেন। এতে পরিবারে স্বচ্ছলতা আসার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক যুব জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। প্রশিক্ষণের পর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা গেলে যুবসমাজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং বেকারত্ব কমবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
তারা বলেন, শুধু প্রশিক্ষণ প্রদান করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না; প্রশিক্ষিতদের কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য কর্মসহায়ক যন্ত্রপাতি বিতরণ এবং সরাসরি চাকরির সুযোগ তৈরির মতো উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ইআইটি রংপুর কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠানটি ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষিত জনশক্তিকে কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করার ধারাবাহিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কর্মসহায়ক উপকরণ প্রদান ও চাকরির সুযোগ তৈরির মাধ্যমে প্রশিক্ষিত যুব ও যুব মহিলাদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুব ও যুব মহিলারা কর্মসহায়ক যন্ত্রপাতি ও নিয়োগপত্র পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ও চাকরির সুযোগ তাদের নতুনভাবে পথচলার আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন