দিনাজপুরের বেসরকারী আর্থিক সংগঠন আল ফালাহ আ'ম উন্নয়ন সংস্থা (আফাআউস)র কার্যালয়ে মব সৃষ্টি করে ভাংচুর, অর্থ লুটপাট, মারধোর, নন জুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর এবং ভূয়া ইস্তফাপত্র তৈরী করে স্বাক্ষর গ্রহনের অভিযোগ উঠেছে।
আজ শনিবার দুপুরে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে এই অভিযোগ করেন সংগঠনটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম মামুন উর রশিদ। এ সময় সংগঠনির কার্যনির্বাহী সদস্য তৈমুল ইসলাম, আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক যাদব কুমার রায়, মো: নুরুজ্জামান, হিসাব ব্যবস্থাপক সাজ্জাদুল বারী, সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদসহ অর্ধ শতাধিক সদস্য ও কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আল ফালাহ আ'ম উন্নয়ন সংস্থা (আফাআউস) ১৯৮৯ সালে রাজবাটীতে প্রতিষ্ঠিত হয়ে সমাজসেবা, যুব উন্নয়ন ও এমআরএ কর্তৃক নিবন্ধিত হয়ে অত্র এলাকার সাধারণ মানুষের উন্নয়নে ও দারিদ্র্য বিমোচনে ও বেকার সমস্যা দূরীকরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে সংস্থাটিতে ৩৪ হাজার সদস্য ৪২ কোটি টাকা সদস্যের আমানত, ৭০ কোটি টাকার ঋণ স্থিতি ও ২৪ কোটি টাকা মূলধন এবং ২২০ জন স্টাফ নিয়ে সংস্থাটি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
গত ২৭ আগষ্ট সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে সংগঠনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এমআরএ কর্তৃক অপসারণকৃত, দুর্নীতিগ্রস্থ অর্থ আত্মসাৎকারী সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মমতাজুল ইসলাম ও অস্তিত্বহীন অবৈধ ভুয়া কমিটির সভাপতি মোঃ আব্দুল মান্নান সরকার গং পরিবারের প্রায় ২০০ জন অশালীনভাষী পুরুষ ও মহিলাদের নিয়ে একত্রিত হয়। এ সময় মানববন্ধনের নামে বহিরাগত সন্ত্রাসী মনসুর আহম্মেদ ওরফে শাহীন এবং আজিজার রহমান ওরফে আজিজ (বিআরটিসি'র ড্রাইভার) সহ আরও অজ্ঞাতনামা বেশ কিছু ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দ্বারা অফিস চলাকালীন সময়ে প্রধান কার্যালয়ে অতর্কিতভাবে হামলা করে। প্রথমে কার্যালয়ের সিসি ক্যামেরাসমূহ ভাংচুর করে সদর-১ ও ৩ শাখার দরজা ভেঙ্গে ফটক দিয়ে জোর পূর্বক ঢুকে প্রধান ফটকসহ দরজা, জানালা ও ট্রেনিং হলরুমের ভিতরে ঢুকে কাঁচের বেরিকেড ভেঙ্গে প্রধান কার্যালয়ে প্রবেশ করে। এ সময় কার্যনির্বাহী কমিটি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম মামুন উর রশিদসহ উপস্থিত কর্মরত সকল স্টাফদেরকে জিম্মি করে অকথ্য ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করে মব সৃষ্টি করে এবং লুটপাট শুরু করে। সংস্থার জানমালের ক্ষয়ক্ষতি করে কর্মরত সকল স্টাফদের ব্যাগগুলি ছিনিয়ে নেয়। সকলের পকেট সার্চ করে টাকা ও মুঠোফোন সমূহ ছিনিয়ে নেয়। মহিলাদের দ্বারা অকথ্য ও অশালীন ভাষায় গালাগালি করে সম্মান হানি করে। টেবিলের ড্রয়ার ব্যাগপত্র লুটপাট করে। সদর-১ শাখার ক্যাশ থেকে জোর পূর্বক মব সৃষ্টি করে সহকারী হিসাব ব্যবস্থাপক রেজাউল হাসানের কাছ থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা লুট করে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, অপসারণকৃত সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা ও অবৈধ, ভুয়া কমিটির বর্তমান সদস্য সচিব নিজে সকল স্টাফদের জিম্মি করে সকলের নিকট থেকে ৩০০/- টাকা মূল্যমানের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়। আরও আলাদা আলাদাভাবে ২০০/- টাকার নন-জুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্পেও স্বাক্ষর নেয়। ভূয়া ইস্তফাপত্র তৈরি করে ৮ জন উর্দ্ধতন কর্মকর্তার মব সৃষ্টি করে স্বাক্ষর গ্রহণ করে। ভাড়াটে সন্ত্রাসী মার্ডার কেসের আসামী আজিজার রহমান ওরফে আজিজের মাধ্যমে ৪২ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে এবং অপসারিত সাবেক নির্বাহী প্রধান কর্মকর্তা ও বর্তমান ভুয়া, অবৈধ সদস্য সচিব মমতাজুল ইসলাম স্টাফদের গায়ে হাত তুলে ও মারধর করে। এসবের ভিডিও ফুটেজ রয়েছে।
এসময় অভিযোগ করা হয়, মোঃ মমতাজুল ইসলাম সংস্থায় প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন, যার মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। এমআরএ বিধিমালা অনুযায়ী কোন অপসারিত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সদস্য সচিব হিসেবে নির্বাচিত হতে পারবেন না।
এই ঘটনায় সাধারণ পরিষদ ও নির্বাহী পরিষদ এবং সংস্থার সকল স্টাফগণের তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও জোর প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন