বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় ড্রেন নির্মাণের জন্য মাটি খনন করতে গিয়ে ৩৩৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে জিলা স্কুলের প্রাচীরসংলগ্ন এলাকা থেকে এসব গুলি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়া সিটি করপোরেশনের মাস্টার ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় জিলা স্কুলের প্রাচীরঘেঁষা এলাকায় ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছিল। সকালে শ্রমিকেরা ড্রেনের তলদেশে মাটি খননের সময় হঠাৎ মাটির ভেতরে ধাতব বস্তু দেখতে পান। পরে কাছে গিয়ে তারা বেশ কিছু গুলি দেখতে পেয়ে বিষয়টি নির্মাণকাজের সংশ্লিষ্টদের জানান।
খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটির নিচ থেকে গুলিগুলো উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে গণনা করে মোট ৩৩৪ রাউন্ড গুলি পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানায়।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, ড্রেন খননের সময় শ্রমিকেরা মাটির নিচে গুলিগুলো দেখতে পান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সেগুলো উদ্ধার করে। তবে গুলিগুলোর সঠিক উৎস, বয়স ও ইতিহাস এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশের ধারণা, উদ্ধার হওয়া গুলিগুলো অতীতের কোনো সময় সেখানে মাটিচাপা দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বগুড়া সদর থানায় হামলা ও লুটপাটের সময় অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হওয়ার বিষয়টিও তদন্তের একটি সম্ভাব্য দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে গুলিগুলো ওই সময় লুট হওয়া গোলাবারুদের অংশ কি না, নাকি আরও পুরোনো—বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার—তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
উদ্ধার হওয়া গোলাবারুদের ধরন নিয়েও প্রাথমিক প্রতিবেদনে ভিন্নতা রয়েছে। কয়েকটি সংবাদমাধ্যম এগুলোকে এসএমজি রাইফেলের গুলি হিসেবে উল্লেখ করেছে, আবার অন্য কয়েকটি প্রতিবেদনে থ্রি-নট-থ্রি রাইফেলের গুলি বলা হয়েছে। তাই পুলিশের আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত গুলির নির্দিষ্ট ধরন সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ উদ্ধার হওয়া গোলাবারুদ হেফাজতে নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে। গুলিগুলোর উৎস ও প্রকৃত বয়স সম্পর্কে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন