যথাযোগ্য মর্যাদা ও বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ৯ ঘটিকায় প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখ হতে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা’র নেতৃত্বে এক বিশাল র্যালী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। র্যালীতে প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. নওশের ওয়ান ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. মাসুদুল হাসান খানসহ বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। সকাল ৯.৩০ ঘটিকায় অডিটোরিয়াম-১-এ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা প্রদত্ত বাণী পাঠ ও বিতরণ করা হয়। বাণী পাঠ করেন প্রফেসর ড. মো. নিজাম উদ্দীন। অত:পর সকাল ১০ ঘটিকায় দিবসের তাৎপর্যের উপর ভিত্তি করে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. নওশের ওয়ান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. মাসুদুল হাসান খান, পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মো. হাসানুজ্জামান এবং রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. আবু হাসান।
আলোচনা সভার শুরুতেই দিবসের তাৎপর্যের উপরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মো. মহিদুল হাসান। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. এনামউল্যা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বলেন, আজকের এ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস যঁাকে কেন্দ্র করে তিঁনি সেই ব্যক্তি যিঁনি ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা করে প্রথম পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিপ্লবের ঘোষণা করেন- তিঁনি আমাদের মহান নেতা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ভিসি মহোদয় বলেন, ১৯৭৫ সালের আজকের দিনে দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সর্বোপরি আপামর জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এদেশে সংঘটিত হয়েছিল সিপাহী-জনতার এক স্বতঃস্ফুর্ত বিপ্লব। আমি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি সেসকল প্রাণপ্রিয় সিপাহী-জনতাকে যারা ৭ নভেম্বর-এ নিজেদের জীবণ বাজি রেখে একদল বিপদগামী সেনা সদস্যের চক্রান্ত নসাৎ করে বিপ্লবের মাধ্যমে মহান স্বাধীনতার ঘোষক তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান কে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে এনেছিলেন। আজকের এ দিনে আমি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান এর সকল শহিদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।
১৯৭৫ সালের এ দিনে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নস্যাৎকারী অপশক্তির হাত থেকে সশস্ত্র বাহিনীর নির্ভিক সৈনিকেরা এবং দেশপ্রেমিক জনতা একাত্ম হয়ে ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে এ দেশকে রাহুমুক্ত করে সৃষ্টি করেন এক নতুন ইতিহাস। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ধারাবাহিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যবহ অধ্যায় এবং ইতিহাসের পাতায় এ দিনটি স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের জাতীয় জীবনেও জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’র তাৎপর্য অত্যন্ত ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে তৎকালীন শাসক শ্রেণীর অযোগ্যতা ও লাগামহীন দূর্নীতির ফলে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক দিক দিয়ে সর্বত্র যখন অস্থিতিশীল ও অনিশ্চিত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল এবং অনেকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলে বেপরোয়া হয়ে উঠে তখন তারাই সেনাবাহীনির প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করে। কিন্তু দেশ প্রেমিক সিপাহী-জনতা উপলদ্ধি করে যে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে জিয়াউর রহমানেই একমাত্র কান্ডারী। এরই প্রেক্ষাপটে দেশের ঐতিহাসিক প্রয়োজনে এক অভূতপূর্ব বিপ্লব ও সংহতির মধ্য দিয়ে সিপাহী-জনতা ৭ নভেম্বর মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান কে দেশ বিরোধী চক্রের বন্দীদশা থেকে মুক্ত করে আনেন। তাই, ৭ নভেম্বরে যে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের গোড়াপত্তন হয়েছিল, তারই পথ ধরে অতি অল্প সময়ের মধ্যে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং জনগনের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বর্ণদ্বার খুলে দিয়েছিলেন শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।
ভাইস-চ্যান্সেলর মহোদয় বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনায় উজ্জিবীত হয়ে “নব্বই এর স্বৈরাচার” বিরোধী আন্দোলন এবং “চব্বিশ এর ফ্যাসিষ্ট বিরোধী গণ-অভ্যুত্থান” সংঘটিত হয়। তাই, দ্বিধাহীনভাবে বলতে পারি স্বৈরাচার ও ফ্যাসিষ্ট সরকারের পতনের চেতনাই ছিল ৭ নভেম্বরের সিপাহী- জনতার রেখে যাওয়া আদর্শ। কাজেই দেশে গণতন্ত্রের বিকাশ ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব চিরস্থায়ী করার ভূমিকায় ৭ নভেম্বর এক অবিস্মরণীয় দিন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. নওশের ওয়ান তার বক্তব্যে সকলের প্রতি বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন বলেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ, দর্শন, সততা, রাজনীতি ও দেশ প্রেম সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের
নিকট পৌছানোর জন্য সর্বদা প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। সর্বোপরি, স্বর্ণিভর বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. মাসুদুল হাসান খান বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্ম হতোনা এবং ৭ নভেম্বর তঁার মুক্তি না হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষা পেতনা তাই, ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। জিয়াউর রহমানের আদর্শ, সততা ও দেশ প্রেম আমাদের অন্তরে ধারণ করতে হবে এবং তঁার সুযোগ্য সন্তান দেশের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সকল উদ্যোগ বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে হবে।
জাতীয়তাবাদী শিক্ষক পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. হাসানুজ্জমান বলেন, সকলকে ৭ নভেম্বরের চেতনা ধারণ করতে হবে। পেশাগত দায়িত্ব পালনে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নীতি ও আদর্শ বাস্তবায়ন করতে আমাদের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হাবিপ্রবি ইউট্যাব এর সভাপতি এবং রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. আবু হাসান বলেন, জাতীয় সংকটের প্রতি ক্ষেত্রে আমাদের সুদৃঢ় ঐক্য অত্যন্ত জরুরী। প্রতিহিংসা পরিহার করে সহনশীলতা ও পরসহিষ্ণুতার মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থরক্ষা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ ও বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে হবে।
ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. এস এম এমদাদুল হাসান এর সভাপতিত্বে এবং প্রফেসর ড. মো. হাফিজুর রহমান হাফিজ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আইকিউএসি’র পরিচালক কৃষিবিদ প্রফেসর ড. সাইফুল হুদা, পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস শাখার পরিচালক প্রফেসর ড. মো. মনিরুজ্জামান বাহাদুর, অফিসার্স ফোরামের পক্ষ থেকে জনসংযোগ ও প্রকাশনা শাখার পরিচালক মো. খাদেমুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদের সভাপতি মো. নুরুজ্জামান, শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জাতীয়তাবাদী ছাত্র দল এর সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ রানা এবং সভাপতি মো. এহসানুল কবির অর্নব ।
আলোচনা শেষে “জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ” উপলক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এছাড়া বাদ যোহর শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, তঁার পরিবার এবং দেশের সমৃদ্ধি কামনা করে কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন