কুড়িগ্রামে প্রস্তাবিত ভুটানিজ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জায়গা পরিদর্শন করেছে ভুটানের একটি বাণিজ্যিক প্রতিনিধি দল। এটি বাস্তবায়ন হলে দারিদ্র পীড়িত কুড়িগ্রামের অর্থনীতিক অবস্থার আমুল পরিবর্তন হবে।
বুধবার(২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ধরলা সেতুর পূর্ব পাশে মাধবরাম মৌজায় প্রস্তাবিত জায়গাটি পরিদর্শন করেন তাঁরা। এর আগে সকালে চিলমারী নৌবন্দর ও পরে সোনাহাট স্থলবন্দর পরিদর্শন করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। অর্থনৈতিক অঞ্চলটির সঙ্গে দুটি বন্দরের যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনের সম্ভাবনা দেখতে তাঁরা এসব জায়গা পরিদর্শন করেন।
ভুটানের জিএমসিএর উপপরিচালক (আন্তর্জাতিক ও কৌশলগত বিষয়াদি) কালদেন দর্জি, সহযোগী পরিচালক নিম এলহাম এবং ঢাকায় রয়্যাল ভুটানিজ দূতাবাসের মিনিস্টার-কাউন্সিলর (বাণিজ্য) দাওয়া শেরিং প্রতিনিধি দলে ছিলেন।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রতিনিধিরাও তাঁদের সঙ্গে ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে বেজার একজন কর্মকর্তা বলেন, ভুটানের প্রতিনিধিরা প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের জায়গা ও যোগাযোগব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা নিয়েছেন। তাঁরা দ্রুত ভালো কিছু হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ধরলা নদীর পূর্ব পাড়ে কুড়িগ্রাম-ভূরুঙ্গামারী সড়কের পাশে চর মাধবরাম এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য ১৩৩ দশমিক ৯২ একর খাসজমি বেজার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আরও ৮৬ একর ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
বাংলাদেশ ও ভুটান সরকারের মধ্যে সমঝোতার পর অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ১০ মার্চ ভুটানের রাষ্ট্রদূত এইচ ই রিনচেন কুইন্টসি প্রস্তাবিত জায়গা পরিদর্শন করেন। পরে ২৮ মার্চ ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগুয়েল ওয়াংচুকও জায়গাটি পরিদর্শন করেন।
প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য জায়গা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সোনাহাট স্থলবন্দর ও চিলমারী নৌবন্দরের যোগাযোগব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। কুড়িগ্রামের সোনাহাট স্থলবন্দর থেকে ভুটানের দূরত্ব প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। ফলে এই স্থলবন্দর দিয়ে ভুটানের সঙ্গে পণ্য পরিবহনের সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে চিলমারী নৌবন্দরকে যুক্ত করা গেলে নৌপথেও পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হবে। এ কারণে প্রতিনিধি দলের এবারের সফরে দুটি বন্দর পরিদর্শনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন